প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনায় অভিযোগ উঠেছে যে, এক তরুণীকে ধর্ষণের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর তাকে একটি স্থানীয় ধানের মিলে আটকে রেখে মারধর করা হয়েছে।
গত রোববার (১৯ জুলাই) বিকেলবেলা ঘটনাটি কেয়াইন ইউনিয়নের বালিয়াকান্দা এলাকায় ঘটে। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী তামিমসহ মোট ৭জনকে অভিযুক্ত করে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগের মধ্যে ভুক্তভোগী উল্লেখ করেন, বালিয়াকান্দা এলাকার তারামিয়ার বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে অবস্থান করা শুরু করার পর থেকেই বাড়ির মালিকের নাতি তামিমসহ (১৮) কয়েকজন তাঁকে বিভিন্নভাবে ভয় দেখাচ্ছিলেন, কুপ্রস্তাব দিচ্ছিলেন এবং হয়রানি করছিলেন।
এক পর্যায়ে, অভিযুক্ত তামিম একাধিক উপায়ে তার মোবাইল নম্বর ও ফেসবুক আইডি সংগ্রহ করে তাকে কুপ্রস্তাব দেয় এবং ধর্ষণের চেষ্টা করে। এই বিষয়টি বাড়ির এক সদস্যকে জানানো হলে সেটি অবহেলায় রয়ে যায় এবং উল্টো ভুক্তভোগী মারধরের শিকার হন।
ভুক্তভোগী তার অভিযোগে আরও উল্লেখ করেছেন যে, কয়েকজন মিলে তাকে একটি কক্ষে আটকে রাখে এবং সেখানে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়, সাথে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করা হয়। গত ১৭ জুলাই গভীর রাতে কক্ষের বাইরে উঁকিঝুঁকি দেওয়ার প্রতিবাদ করার ফলে তাঁকে চুল ধরে টেনে-হিঁচড়ে মারধর করা হয়।
অভিযোগের আরও একটি অংশে জানা যায়, ১৯ জুলাই দুপুরে অভিযুক্তদের মধ্যে একজন প্রকাশ্যে তার কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দিলে তাঁকে ভাড়া বাসায় প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও মালামাল পুড়িয়ে ফেলার ভয় দেখানো হয়। একই সময়ে আরেক অভিযুক্ত ফোন করে এক লাখ টাকা দাবি করে এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।
একপর্যায়ে, অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ওইদিন স্থানীয় বিএনপি নেতা দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়ার ধানের মিলে তাঁকে আটক রেখে মারধর করা হয়। পরে, তিনি জীবন বাঁচাতে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন, এবং পুলিশ এসে তাঁকে উদ্ধার করে।
অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া, যিনি মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সদস্য, তিনি জানিয়েছেন, ঘটনার সময় তিনি মুন্সীগঞ্জে ছিলেন। তিনি বলেন, "একটা খারাপ মেয়েকে মারছে, তাতে কী হয়েছে? বিষয়টি এমপি সাহেবকে জানিয়েছি।"
এই ঘটনার বিষয়ে সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন জানিয়েছেন, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্তের পর সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন