প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
১৪ বছরের পিতৃহীন শিশু মিশকাতের একমাত্র জীবিকার নির্ভরতা ইজিবাইকটি যাত্রীবেশে একদল দুর্ধর্ষ ডাকাতের দ্বারা ছিনতাই হয়ে যায়। আলোড়ন সৃষ্টিকারী এ ঘটনার পেছনে থাকা আন্তঃজেলা দস্যু চক্রের ১০ সদস্যকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। একই সময়ে উদ্ধার করা হয়েছে চুরি হওয়া ইজিবাইক, মোবাইল ফোন এবং নগদ টাকা।
শনিবার (২৫ জুলাই) তাঁরা ঝিনাইদহ সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল ও ঝিনাইদহ সদর থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, কুমারখালী ও মিরপুর এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন।
পুলিশ এবং এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাবার মৃত্যুর পর পরিবারকে চালানোর জন্য ১৪ বছর বয়সী শিশু মিশকাত ইজিবাইক চালাতে থাকে কোটচাঁদপুর উপজেলার তালসার গ্রামের অধিবাসী হিসেবে। ১৯ জুলাই ২০২৬ বিকেলে কোটচাঁদপুর রেলগেট এলাকা থেকে চারজন যাত্রীবেশে তার ইজিবাইকে ওঠে। পরে, তাকে ঝিনাইদহ সদর থানাধীন বংকিরা মাঠের একটি নির্জন মেহগনি বাগানে নিয়ে হাত-পা এবং মুখ বন্ধ করে ইজিবাইকসহ মোবাইল ফোন ছিনতাই করে চলে যায়।
ভুক্তভোগীর চাচা এ ঘটনার পর ২১ জুলাই ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি দস্যুতার মামলা (মামলা নম্বর-৩৭) দায়ের করেন। ঘটনা বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে, পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান, পিপিএম ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং আসামিদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন।
প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে, পুলিশ ও সাইবার ক্রাইম সেলের তদন্ত দল কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা এবং আশপাশের জেলাগুলোতে অভিযান চালায়। অভিযানে ইজিবাইক ছিনতাইয়ের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত চার দস্যুকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন— ১. মো. আকাশ সরদার বা ডাকাত আকাশ, ২. মো. জিয়ারুল বা জিয়া (৪৪), ৩. মো. সিরাজুল ইসলাম (৪০) এবং ৪. মো. আখতার মোল্লা (৪০)।
পরবর্তীতে, তাদের দেওয়া তথ্যে লুণ্ঠিত মালামাল কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত আরও ছয় সদস্য—রাশিদুল ইসলাম বা বল্টু (৫০), মো. লিটন আলী (৫০), মো. সজীব শেখ (২৪), মো. মাসুদ রানা (৩২), মো. ইসলাম খান বা তাহের (৬৫) এবং মো. আশরাফুল ইসলাম (৪২)-কে পুলিশ গ্রেপ্তার করে।
অভিযানকালে আসামিদের কাছ থেকে মিশকাতের ছিনতাই হওয়া ইজিবাইক, একটি লুণ্ঠিত মোবাইল ফোনসহ মোট আটটি মোবাইল ফোন এবং বাইক বিক্রির নগদ ৩ হাজার ৪০০ টাকা উদ্ধার করা যায়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা স্বীকার করেন, তারা দীর্ঘসময় ধরে ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মাগুরা এবং পাবনা জেলাজুড়ে সংঘবদ্ধভাবে ডাকাতি ও দস্যুতা করে আসছিলেন। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে পৃথক থানায় একাধিক চুরি, ডাকাতি এবং দস্যুতার মামলা রয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন