প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালনা সহজ করতে এবং চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা ও স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের জন্য একটি কোম্পানির প্রতিষ্ঠা ও তাতে বিনিয়োগের ক্ষমতা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (দ্বিতীয় সংশোধন) বিল, ২০২৬ জাতীয় সংসদে গৃহীত হয়েছে।
সোমবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন যখন বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন, তখন তা কণ্ঠভোটের মাধ্যমে পাস হয়ে যায়।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয় যে, বাংলাদেশের উচ্চতর চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা এবং উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৯৮-এর মাধ্যমে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একটি সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়, তবে সেখানে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও সহায়ক জনবলের অভাব এবং সুস্পষ্ট পরিচালন কাঠামোর অভাবে হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি।
হাসপাতালটি কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর আওতায় হাসপাতালটির পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই কারণে বিদ্যমান আইনে সংশোধন আনার প্রয়োজন হয়ে পড়ে।
প্রস্তাবিত সংশোধনীর মাধ্যমে, চিকিৎসা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় লাভজনক বা অলাভজনক কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান গঠন করতে সক্ষম হবে। এর সাথে কেন্দ্রীয়ভাবে এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার অর্জন, সংরক্ষণ এবং হস্তান্তরের ক্ষমতাও প্রদান করা হচ্ছে।
বিলে বিশ্ববিদ্যালয়কে এই ধরনের কোম্পানি প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার স্পষ্ট আইনগত ক্ষমতা দেওয়ার পাশাপাশি সিন্ডিকেটের ক্ষমতা, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরিচালন বিধিমালা, প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে অর্জিত আয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলে অন্তর্ভুক্ত করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল থেকে বিনিয়োগের শর্তাবলী নির্ধারণের বিধান রাখা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে যদি এই কাঠামোর আওতায় আন্তর্জাতিক মানের বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয়, তবে দেশি-বিদেশি খ্যাতিমান চিকিৎসক, শিক্ষক ও গবেষকরা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে কাজ করার সুযোগ পাবে। এটি আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি, জ্ঞান ও দক্ষতার আদান-প্রদানকে আরও জোরদার করবে।
বিলে আরও উল্লিখিত হয়েছে যে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে রেসিডেন্সি, ফেলোশিপ ও অন্যান্য উচ্চতর চিকিৎসা প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আরও শক্তিশালী হবে। শিক্ষার্থীরা উন্নত ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবে এবং আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসক, গবেষক ও স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবী তৈরি করা সহজ হবে।
বিল অনুযায়ী, কোম্পানিগুলো থেকে অর্জিত আয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা, শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমে পুনর্বিনিয়োগ করা যাবে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক একাডেমিক উৎকর্ষ অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন