প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে দেশটির সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, ইরানের কাছে পরমাণু অস্ত্র রয়েছে বলে নেতানিয়াহুর যে দাবি করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণরূপে মিথ্যা ও বানোয়াট। নেতানিয়াহু ইসরাইলিদের আতঙ্কিত করতে এই মিথ্যাচার করেছেন বলে তিনি জানান। খবরটি প্রকাশিত হয়েছে আলজাজিরাতে।
গাদি আইজেনকোট সোমবার (৩০ জুন) আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দেন। সেই সময় তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেশের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবেন এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ইসরাইলি দৈনিক ইয়েদিওথ আহরোনথের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, বুধবার (১ জুলাই) মধ্য ইসরাইলে আয়োজিত এক সম্মেলনে বিরোধী দল ইয়াশার পার্টির প্রধান আইজেনকোট বলেন, ‘নেতানিয়াহু অত্যন্ত জঘন্য কথা বলেছেন। ইরানের কাছে কোনো পরমাণু বোমা ছিলই না। ইসরাইলি জনগণকে ভয় দেখাতে তিনি বাস্তবতাকে বিকৃত করেছেন।’
আইজেনকোট ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ইসরাইলের সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট, যিনি টুগেদার রাজনৈতিক জোটের নেতৃত্ব দেন, তিনিও নেতানিয়াহুর বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছেন।
একই সম্মেলনে বেনেট উল্লেখ করেন, ‘গতকাল বলা হয়েছিল যে ইরানের কাছে ইতিমধ্যে পারমাণবিক বোমা রয়েছে। এটা একটা ডাহা মিথ্যা। এটা ইতিহাসকে নতুন করে লেখার চেষ্টা।’ তিনি নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম পরিচালনারও সমালোচনা করেন।
নেতানিয়াহু বহু বছর ধরেই দাবি করে আসছেন যে, ইরান পরমাণু বোমা তৈরির চেষ্টা করছে। তিনি যেকোনো মূল্যে ইরানের পরমাণু অস্ত্র তৈরি ঠেকানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে তেহরান বরাবরই এই দাবিগুলো নাকচ করে আসছে এবং তাদের দাবি, তাদের পরমাণু কর্মসূচি একদম শান্তিপূর্ণ।
এই পরমাণু ইস্যুতেই ওয়াশিংটন-তেহরান চলমান আলোচনা চলাকালীন ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলিয়ে ইরানে সামরিক আগ্রাসন চালানোর জন্য ইসরাইল অভিযুক্ত হয়েছে। এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি ইসরাইলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা পরিচালনা করে।
কয়েক সপ্তাহের তীব্র রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর গত এপ্রিল মাসের শুরুতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, যা এখনও বহাল রয়েছে। সংঘাতের অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। তবে লেবাননে ইসরাইলি হামলার কারণে পরিস্থিতি মাঝে মাঝে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।
এই অবস্থার মধ্যেই নেতানিয়াহু আবারও তেহরানে হামলার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইরানকে কোনোভাবেই পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হতে দেওয়া হবে না এবং প্রয়োজনে দেশটিতে আবারও সামরিক অভিযান চালানোর জন্য ইসরাইল প্রস্তুত রয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১৪-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু দাবি করেন, ‘ইরানের পরমাণু বোমা থেকে আমরা নিজেদের রক্ষা করেছি এবং আমাদের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট—তেহরানকে কখনোই পারমাণবিক শক্তিধর হতে দেওয়া হবে না।’
নেতানিয়াহু প্রশাসনের দাবি, আলোচনার আড়ালে ইরান মূলত তাদের পরমাণু কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ইসরাইল আগেও ইরানে হামলা চালানোর কথা স্বীকার করেছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বাধা সত্ত্বেও তারা পুনরায় হামলার হুমকি দিয়ে আসছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, নেতানিয়াহুর এই সর্বশেষ বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন