প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে প্রাণনাশের হুমকি এবং রাকসু ভবনে হামলা ও প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)। সাংবাদিকদের সামনে তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাকসু ভবনে সংস্থার সহ-সভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি লিখিত বক্তব্যে জানান, ২৬ জুলাই সংস্কৃত বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের এক নারী শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, একই বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মুহসিন তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। কিন্তু যখন ওই শিক্ষার্থী প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন, তখন অভিযুক্ত তাকে ছুরি প্রদর্শন করে পদ্মা নদীতে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেন এবং উল্লেখ করেন যে, তার কাছে পিস্তল আছে। এই অভিযোগের পর সেদিন রাতেই প্রক্টর অফিসে উভয় পক্ষকে ডাকা হয়।
রাকসুর অভিযোগ জানায়, ওই সময় 'আনাস' নামে এক ব্যক্তি অভিযুক্তের অভিভাবক পরিচয়ে প্রক্টর অফিসে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রমে বাধা প্রদান করেন এবং প্রক্টরের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। পরে তাকে কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে এই ঘটনার ভিডিও প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়। এ ছাড়াও আনাসের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও ওঠে।
বক্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয় যে, ২৭ জুলাই পুনরায় প্রক্টর অফিসে উভয় পক্ষকে ডাকা হলে মুহসিনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। তবে এই বিষয়ে নিষ্পত্তির শেষ পর্যায়ে আনাস আবারও প্রক্টর অফিসে এসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন এবং প্রক্টরিয়াল বডি, রাকসুর জিএস, এজিএস, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবং সমাজকল্যাণ সম্পাদকের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।
রাকসুর ভাষ্য অনুসারে, প্রক্টরের উপস্থিতিতে আনাসের মোবাইল ফোন পর্যালোচনায় ছাত্রলীগের সাথে সম্পৃক্ততার বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যায় এবং তিনি স্বীকার করেন যে, তিনি পূর্বে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে খবর দেওয়া হলেও পরে তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর না করে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয় যে, পরে আনাস এবং ছাত্রদল নেতা শাফিন সহ তাদের সহযোগীরা রাকসু ভবনে হামলা চালানোর ঘটনা ঘটে। এই হামলায় রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার শারীরিকভাবে আহত হন এবং তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক নাজমুস সাকিব গুরুতর আহত হয়ে রক্তাক্ত হন।
রাকসুর দাবি হল, পরে আনাস বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির রিডিং রুমে আশ্রয় নিলে তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সোপর্দ করার দাবি তোলা হয়। তবে প্রশাসনের দীর্ঘ সময়ের নিষ্ক্রিয়তার কারণে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাকসু ছয় দফা দাবি জানায়। দাবিগুলি হলো, নারী শিক্ষার্থীকে প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ, রাকসু ভবনে হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনা, দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ তদন্ত করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস ও রাজনৈতিক পরিচয়ের অপব্যবহার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অতীতে নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত ও ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা।
সংবাদ সম্মেলনে রাকসু নেতৃবৃন্দ জানান,’universit.camparsy.com’ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের সন্ত্রাস, নারী শিক্ষার্থীর প্রতি সহিংসতা কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ের অপব্যবহার মেনে নেওয়া হবে না। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, আইনের শাসন এবং বিশ্ববিদ্যালয় মর্যাদা রক্ষায় গণতান্ত্রিক ও আইনসম্মত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলেও তারা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার এক প্রশ্নের জবাবে জানান, রাকসু ভবনে হামলার পর তারা উল্লেখ করেন যে, তারা প্রক্টর অফিসে গিয়ে বারবার প্রতিকার চাইতে থাকেন। কিন্তু ২০-২৫ মিনিট পার হয়ে গেলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এবং তিনি উল্লেখ করেন, এই পরিস্থিতি সৃষ্টিই হবে না, যদি তাদেরকে প্রথমেই অ্যারেস্ট করা হতো।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন