প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ২ নম্বর দলের মোকাবিলা করতে হয়েছিল ৬৪ নম্বর দলের। এই নকআউট পর্বের ম্যাচে, কেপ ভার্ডের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের জন্য কাগজে-কলমে আর্জেন্টিনা অনেক এগিয়ে ছিল। গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনা যে ভাবে খেলেছে, তাতে বিশেষজ্ঞরা কেপ ভার্ডের বিরুদ্ধে লিওনেল মেসিদের তেমন একটা চ্যালেঞ্জ দেখছিলেন না। কিন্তু কেপ ভার্ডে বুক চিতিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, সকল ধরনের পরিসংখ্যানকে একপাশে রেখে।
নির্ধারিত সময় এবং অতিরিক্ত সময়ে তারা দুইবার পিছিয়ে পড়লেও, কেপ ভার্ডে দুবার সমতায় ফিরেছে। অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তারা প্রথমবার বিশ্বকাপে আসা দল হিসাবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ঘাম ছুটিয়েছিল। তবে, শেষ রক্ষা হয়নি। ১১১ মিনিটে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর গোলে কেপ ভার্ডের রূপকথার অধ্যায়টি শেষ হয়ে যায়।
মায়ামিতে অনুষ্ঠিত খেলায় কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে পরাজিত করে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপের শেষ ১৬-তে প্রবেশ করেছে।
আজ (৪ জুন) অবশ্য মাঠে নেমেই মেসি বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন এক মাইলফলক গড়েছেন। এই ম্যাচটি তার বিশ্বকাপে ৩০তম ম্যাচ, যা এই প্রতিযোগিতার ইতিহাসে কোনো ফুটবলারের সর্বোচ্চ। এটি এছাড়াও তার ২৭তম ম্যাচে শুরুর একাদশে খেলার রেকর্ড, যা আর কোনো ফুটবলারের নেই।
রেকর্ডময় ম্যাচে মেসি ২৯ মিনিটে কেপ ভার্ডের দেয়ালও ভাঙেন। মাঝমাঠ থেকে লিসান্দ্রো মার্টিনেজের বাড়ানো বলটি গ্রহণ করে গোলকিপারের মাথার ওপর দিয়ে জালে প্রবেশ করান। এটি বিশ্বকাপে তার ২০তম গোল, এবং এই বিশ্বকাপে মোট ৭ গোলের মধ্যে এটি অন্যতম। ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে তার পেছনে রয়েছেন ৬ গোল নিয়ে।
এদিকে, র্যাঙ্কিং এবং শক্তির দিক দিয়ে পিছিয়ে থাকলেও, আর্জেন্টিনা মায়ামিতে ইতিবাচক ফুটবল খেলতে শুরু করে। নিজেদের গুটিয়ে না রেখে আক্রমণে যাওয়ার চেষ্টা করেছে। তবে, প্রথমার্ধে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা নিশ্চিত গোলের কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি এবং লিড নিয়ে বিরতিতে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধের ৫৯ মিনিটে কেপ ভার্ডে সমতা ফেরায়। রায়ান মেন্ডেসের ডান দিক থেকে বল বাড়ানো হয়ে যায় ডেরয় দুয়ার্তের কাছে। তার সামনে ফাঁকা জায়গাতে বল চলে আসে এবং আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের নজর এড়িয়ে তিনি দুর্দান্ত শটে গোল করেন।
৬৩ মিনিটে, লিওনেল মেসির একটি দারুণ শট ফিরিয়ে দেন ভোজিনহা। ৭৩ মিনিটে আবারও মেসির ফ্রি কিক ভোজিনহা রুখে দেন। ম্যাচের বাকি সময় আর্জেন্টিনা একাধিকবার চেষ্টা করলেও কেপ ভার্ডের দেয়াল ভাঙতে পারেনি। ফলে খেলা অতিরিক্ত সময়ে চলে যায়।
অতিরিক্ত সময়ের তৃতীয় মিনিটেই আবার লিড নেয় আর্জেন্টিনা। কর্ণার থেকে বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে লিসান্দ্রো দুয়ে তা দূরের কোণে জোরালো বাঁকানো শটে পাঠান।
এই গোলকেই ম্যাচ নির্ধারণী গোল হিসেবে কারও কাছে ভাবা হয়, কিন্তু কেপ ভার্ডের সিডনি কাবরাল আবারও চমক দেন। তার বাঁ প্রান্তে বল পেয়ে কাট করেন। এরপর ডান পায়ে দুর্দান্ত শটে তিনি পোস্টে বল যায়।
নাটকীয় ম্যাচের শেষ পেরেকটা ঠুকেন ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো। ১১১ মিনিটে মেসির পাঠানো কর্ণার থেকে সবার ওপর উঠে হেডে গোল করেন রোমেরো। কষ্টার্জিত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন