প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
পুলিশ পঞ্চগড়ে সড়কের পাশে একটি খাল থেকে রেজাউল করিম রেজা (৪০) নামের এক ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করেছে। তার পকেটে একটি চিরকুট পাওয়া যায়, যেখানে লেখা ছিল ‘আমি বাঁচতে চেয়েছিলাম’।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নগরের তুলারডাঙ্গা এলাকায় ইসলাম ফ্লাওয়ার মিলের পাশে খাল থেকে ওই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
রেজাউল করিম রেজা পঞ্চগড় পৌরসভার রাজনগর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ভেলাজান এলাকার মোস্তফা কামালের ছেলে। পঞ্চগড় সদর থানার সামনে তিনি কম্পিউটার কম্পোজের ব্যবসা করতেন। স্ত্রী এবং তিন সন্তান নিয়ে রাজনগরের বাড়িতে তার বসবাস ছিল।
পরিবারের সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে রেজাউল করিম রেজা রাগ করে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। এরপর তিনি আর বাড়িতে ফিরে আসেননি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান পাননি।
পুলিশ জানায়, বুধবার সকাল আনুমানিক সাতটার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে তুলারডাঙ্গা এলাকায় সড়কের পাশে একটি অজ্ঞাত মরদেহ পড়ে থাকার খবর জানানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে এবং এলাকাটি ঘিরে রাখে। পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এর ফরেনসিক দল ঘটনাস্থলে গিয়ে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে।
এদিকে, মরদেহের পকেট থেকে পাওয়া চিরকুট নিয়ে রেজার মৃত্যু ঘিরে রহস্য তৈরি হয়েছে। চিরকুটে লেখা ছিল, ‘দয়া করে কেউ আমার দাফনের কাপড় দান করে দিয়েন। আমার কোনো টাকা নেই। আমি বাঁচতে চেয়েছিলাম কিন্তু পারলাম না। সমাজ বড় কঠিন! বাচ্চাদের এতিমখানায় ভর্তি করে দিও।’
রেজার স্ত্রী কোহিনুর বেগম জানান, প্রতিদিন ঘুমের ওষুধ খেয়ে বাড়ি আসতেন রেজা। গতকালও তিনি ওষুধ খেয়ে এসে অসংলগ্ন কথাবার্তা বলতে শুরু করলে তার সঙ্গে ঝগড়া হয়। রাত ১২টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান তিনি। পরে সকালে মরদেহ পাওয়ার খবর পেয়ে গিয়ে শনাক্ত করেন। কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তা কোহিনুর জানেন না।
তবে রেজার বাবা মোস্তফা কামাল দাবি করেন, তার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার দাবি করেছেন।
পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শইমী ইমতিয়াজ বলেন, আজ সকাল আনুমানিক সাতটার দিকে ৯৯৯-এ কল আসে, তুলারডাঙ্গায় রাস্তার পাশে একটি অজ্ঞাত লাশ পড়ে আছে। খবর পাওয়ামাত্র আমাদের মোবাইল টিম ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে গিয়ে ক্রাইম সিন সিকিউর করা হয়। পরে সিআইডির ফরেনসিক টিমকে খবর দেয়া হলে তারা এসে আলামত সংগ্রহ করে। মরদেহের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সম্ভাব্য সব বিষয় নিয়ে তদন্ত এগিয়ে নেয়া হচ্ছে। আশা করি, আমরা সত্য উদঘাটন করতে পারব।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন