প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
কুয়েত ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি সম্প্রসারিত প্রতিরক্ষা চুক্তি বিষয়ক আলোচনা চলছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি পাকিস্তানের সঙ্গে এই প্রতিরক্ষা চুক্তি করতে উৎসাহী, যা জ্বালানি সহযোগিতা ও বিনিয়োগের বিনিময়ে করা হবে।
শনিবার (১৮ জুলাই) ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
কুয়েত ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচটি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে রয়টার্স জানায়, আলোচনা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এই আলোচনা জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে হচ্ছে।
সোমবার ইয়েমেনে ইরানের মিত্র হিসেবে পরিচিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিরা সৌদি আরবে হামলা চালায়। এরপর পাকিস্তান তাদের বার্তায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে, সৌদি আরবের ওপর যেকোনো হামলাকে নিজেদের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করবে।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ও যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে সংঘাতে কুয়েত একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছে। ফলে, পাকিস্তান যদি কুয়েতের সঙ্গে নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি করে, তবে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে কুয়েতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। এমনকি, ইরানের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধেও জড়িয়ে পড়তে পারে কুয়েত।
যদিও কুয়েতের সঙ্গে পাকিস্তানের সামরিক প্রশিক্ষণ ও যৌথ মহড়া নিয়ে একটি সীমিত প্রতিরক্ষা চুক্তি ২০২৩ সাল থেকে কার্যকর রয়েছে। তবে, কুয়েত এখন পাকিস্তানের কাছ থেকে আরও শক্তিশালী নিরাপত্তা সহযোগিতা চাইছে, ঠিক সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের বর্তমান চুক্তির মতো।
এ প্রসঙ্গে, পাকিস্তান সরকারের একজন কর্মকর্তা জানান, প্রস্তাবিত সহযোগিতার আওতায় হাজার হাজার পাকিস্তানি সেনা মোতায়েন, যুদ্ধবিমান, ড্রোন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও অন্যান্য সামরিক সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। কিন্তু পাকিস্তান এতটা অগ্রসর হবে কিনা, তা এখনও নিশ্চিত নয়। কারণ, সৌদি আরবের সঙ্গে বহু দশকের পুরোনো মিত্রতার ভিত্তিতে ঘটানো প্রতিরক্ষা চুক্তির উপর নির্ভর করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের একটি সূত্রও উল্লেখ করেছে, কুয়েত পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে, এই আলোচনা শেষ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে রূপ নেবে কিনা, তা নিশ্চিত নয়।
এদিকে, পাকিস্তানি এক কর্মকর্তা বলেন, 'একটি বিষয় পরিষ্কার করে বলতে চাই, বর্তমানে যুদ্ধের জন্য সেনা মোতায়েনের বিষয়ে আমরা বিবেচনা করছি না এবং খুব সম্ভবত করতে পারি না।'
গত এক বছরে পাকিস্তানের সঙ্গে নতুন আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা জোট গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলো আরো আগ্রহী হয়ে উঠেছে। পাকিস্তানের একটি বড় সামরিক বাহিনী রয়েছে এবং নিজস্ব যুদ্ধবিমানও নির্মাণ করে। পাকিস্তানও প্রতিবেশী ও আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তিকে জরুরি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের একটি উপায় হিসেবে বিবেচনা করছে।
এছাড়া, তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব একটি নতুন পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির খসড়া তৈরি করছে। এটি সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের বর্তমান দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির বাইরে একটি আলাদা উদ্যোগ। বাহরাইনও একই ধরনের চুক্তিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। পাকিস্তানের সঙ্গে অস্ত্র সরবরাহ ও সামরিক প্রশিক্ষণের প্রস্তাব নিয়ে জর্ডানও আগ্রহী। এদিকে, কুয়েত পাকিস্তানের জন্য তেল ও জ্বালানির নিরাপত্তার বড় সুযোগ নিয়ে এসেছে।
পাকিস্তানের একটি সূত্র বলেছে, কুয়েত পাকিস্তানে শুল্ক-সুবিধাসহ জ্বালানি সংরক্ষণাগার স্থাপন সম্ভাবনা নিয়ে চিন্তা ভাবনা করছে। এটি দুই দেশের সরকারের মধ্যে আগেই প্রতিষ্ঠিত ডিজেল সরবরাহ চুক্তির ভিত্তিতে এগোতে পারে। যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমে আসে, তাহলে এ বিষয়ে আলোচনা আরো ত্বরান্বিত হতে পারে। এ ধরনের প্রস্তাব আরো বড় পরিসরের প্রতিরক্ষা চুক্তির দিকে এগোতে উৎসাহিত করতে পারে পাকিস্তানকে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন