প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশে পৌঁছানোর সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে। সংস্থাটির বক্তব্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমলে মানুষের ভোগব্যয় ও বিনিয়োগের বৃদ্ধি ঘটতে পারে। এর ফলে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি কিছুটা ত্বরান্বিত হবে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক সেপ্টেম্বর ২০২৬’ প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস প্রকাশ করা হয়েছে।
এডিবির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৫ শতাংশ ছিল। পরবর্তী অর্থবছর ২০২৫–২৬ সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে। আর ২০২৬–২৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি আরও বৃদ্ধি পেয়ে ৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় ২০২৫–২৬ অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কিছুটা ধীর হয়েছে। তবে এডিবি মনে করে এর প্রভাব সীমিত থাকবে। ২০২৬ সালের প্রথমভাগে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমলে ভোগব্যয় ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা বাড়বে।
এডিবির বাংলাদেশ প্রধান চিংফেং ঝাং মন্তব্য করেছেন, "বাংলাদেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে।" তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির পরিবর্তন এবং দেশের অভ্যন্তরীণ সীমাবদ্ধতার কারণে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া এখনও ঝুঁকিমুক্ত নয়।
তিনি আরও বলেন, "সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, আর্থিক খাত, জ্বালানি নিরাপত্তা ও ব্যবসার পরিবেশে সংস্কার দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার এখনই সময়।" এসব সংস্কারের ফলে বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এডিবি বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলেও তিনি জানান।
মূল্যস্ফীতির ক্ষেত্রেও কিছুটা স্বস্তির পূর্বাভাস দিয়েছে এডিবি। তাদের মতে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৭ শতাংশে নেমে আসতে পারে। তবে ২০২৬–২৭ অর্থবছরে তা আবার ৯ শতাংশ হতে পারে। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে দেশে মূল্যস্ফীতি ছিল ১০ শতাংশ।
এডিবি জানাচ্ছে, জ্বালানিসংকট, উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এল নিনোর প্রভাবে খাদ্যের দামও বাড়তে পারে। মুদ্রানীতি ধীরে ধীরে শিথিল হলে মূল্যস্ফীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।
বাড়তে পারে চলতি হিসাবের ঘাটতি
এডিবি জানিয়েছে, ২০২৬–২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের চলতি হিসাবের ঘাটতি দ্বিগুণ হতে পারে। রপ্তানির তুলনায় আমদানি বেশি হওয়ার কারণে এ ঘাটতি বাড়বে।
এডিবির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে চলতি হিসাবের ঘাটতি ছিল জিডিপির শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ। আগামী অর্থবছরে তা বেড়ে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেও প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের প্রবাহ ভালো থাকবে বলে এডিবি মনে করছে। প্রবাসী আয় বাড়লে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হলে বৈদেশিক লেনদেনে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সহজ হবে। এ জন্য পর্যাপ্ত বৈদেশিক অর্থপ্রবাহ নিশ্চিত করা এবং মুদ্রা বিনিময় হারকে বাজারের চাহিদা ও জোগানের সঙ্গে সমন্বিত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রবৃদ্ধির চালিকা শক্তি হবে ভোগব্যয়
আগামী অর্থবছরে সেবা ও কৃষি খাত প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে এডিবির পূর্বাভাস। তবে শিল্প ও বিনিয়োগ খাতে গতি কম থাকতে পারে।
উচ্চ সুদহার, ঋণ পাওয়ার কঠিনতা, জ্বালানিসংকট এবং বিদেশে চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে শিল্প ও বিনিয়োগ খাতে চাপ থাকবে। দেশের দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সমস্যাগুলোও প্রবৃদ্ধির পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এডিবি বলছে, প্রবাসী আয় বাড়ানোর ফলে মানুষের ভোগব্যয় বাড়তে পারে। ফলে আগামী অর্থবছরে ভোগব্যয়ই প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকা শক্তি হতে পারে। তবে মূল্যস্ফীতি বেশি থাকায় মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ অব্যাহত থাকবে।
অর্থনীতিতে নানা ঝুঁকি
বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য কিছু ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করেছে এডিবি। এর মধ্যে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়া, তেলের দাম বাড়া এবং বৈশ্বিক জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা।
এছাড়াও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন বিধিনিষেধ, বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি বাজারগুলোতে প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়া, ডলারের বিপরীতে টাকার ওপর চাপ অব্যাহত থাকা এবং ব্যাংক খাতে নতুন সংকট তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
রাজস্ব সংস্কারে বিলম্ব, উন্নয়ন ব্যয় প্রত্যাশার চেয়ে কম হওয়া এবং জলবায়ুজনিত দুর্যোগও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। এসব কারণে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এডিবি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন