প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে একটি ঘরে আটকে রেখে সিঁথি সীমিতা (২৮) নামের এক স্কুলশিক্ষককে নৃশংসভাবে কুপিয়েছে এক নারী শিক্ষার্থীর মা। এ ঘটনায় শিক্ষকের মাথায় ১০টি কোপের গুরুতর আঘাত লেগেছে। পাশাপাশি, তার একটি আঙুলও বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) ভর্তি রয়েছেন। টিউশনির টাকা চাওয়ার কারণে ওই শিক্ষার্থীর মা প্রিয়া বেগম (২৫) এই হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সোমবার সকালে উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের পানাউল্লাহরচর গ্রামে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। জানা যায়, সিঁথি সীমিতা স্থানীয় একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। শিক্ষকের জন্য প্রিয়ার এক সন্তানকে তিন মাস ধরে তিনি বাসায় গিয়ে পড়ান। এই টিউশনের জন্য সিঁথি মাসে দেড় হাজার টাকা নিয়ে থাকেন। কিছু দিন আগে সিঁথি টিউশনির টাকা প্রিয়ার কাছে চান। এতে প্রিয়া ক্ষুব্ধ হয়ে যান। গতকাল সকালে পাঠদান শেষে বাড়ি ফিরে যাওয়ার মুহূর্তে শিক্ষার্থীর মা প্রিয়া দরজা বন্ধ করে দা দিয়ে সিঁথি সীমিতাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করেন। দরজা আটকানো থাকায় সিঁথি ঘর থেকে বের হতে পারেননি। তার শরীরে অসংখ্য কোপ লেগেছে এবং সাতটি আঙুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরে স্থানীয় মানুষের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে আসেন এবং তাকে উদ্ধার করেন। প্রথমে সিঁথিকে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢামেক হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তার মাথায় ১০টি কোপ লেগেছে এবং মাথায় ৫০টি সেলাই দিতে হয়েছে। আহত সিঁথি সীমিতা বার্তা দিয়েছেন, "মাথায় প্রথম কোপটি দেওয়ার পর আমি দরজা খোলার চেষ্টা করি। কিন্তু তখন জানতে পারি দরজায় ছিটকিনি লাগানো। পরে আমি আর বের হতে পারিনি।" এদিকে, স্থানীয় লোকজন হামলাকারী প্রিয়াকে পুলিশে প্রেরণ করেন। তিনি একই এলাকার খাবারের হোটেল ব্যবসায়ী বায়েজিদ মিয়ার স্ত্রী। এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কিশোরগঞ্জ কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে। ভৈরব থানার জ্যেষ্ঠ উপ-পরিদর্শক এমদাদুল কবির জানিয়েছেন, হামলার পেছনে আরও কোনো কারণ রয়েছে কিনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন