প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদে ফজরের নামাজ আদায়ের জন্য গিয়ে ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের মসজিদে প্রবেশ করতে পারেনি। নিরাপত্তার কারণে ইসরাইলি পুলিশ তাদের আটকে দেয়, বয়সসীমা নির্ধারণ করে। এর ফলে অনেক মুসল্লি মসজিদের বাইরেই নামাজ আদায় করতে বাধ্য হন। একই সময়, ইহুদিদের বার্ষিক শোক দিবস উপলক্ষে আল-আকসা প্রাঙ্গণে ইহুদি দর্শনার্থীদের প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানা যায়, ইহুদিদের ধর্মীয় দিবস 'তিশা ব'আভ' উপলক্ষে বুধবার সন্ধ্যা থেকে জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে শত শত ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী প্রবেশ করতে শুরু করে।
জেরুজালেমের ইসলামিক ওয়াকফ বিভাগ জানিয়েছে, ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর পাহারায় ২ হাজার ৩০০-এর বেশি বসতি স্থাপনকারী আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেছে। এই সময় ইসরাইলের কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরও প্রবেশ করেন আল-আকসা প্রাঙ্গণে।
ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাগণ অভিযোগ করেন যে, ইসরাইলি বাহিনী আল-আকসার প্রবেশপথে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে, বিশাল সংখ্যক ফিলিস্তিনি মুসল্লিকে প্রবেশে বাধা দেয়, শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে দেয় এবং কয়েকজন মুসল্লির ওপর হামলা চালায়।
জেরুজালেম গভর্নরেট এক বিবৃতিতে বেন-গভিরের এই প্রবেশকে ‘বিপজ্জনক উসকানি’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাদের দাবি, এটি এমন কর্মকাণ্ডের প্রতি ইসরাইলি সরকারের আনুষ্ঠানিক সমর্থনের ইঙ্গিত, যা আগে কেবল উগ্রপন্থি গোষ্ঠীগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট ছিল।
এইদিকে, আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ২ হাজারের বেশি বসতি স্থাপনকারীর প্রবেশের ঘটনায় জর্ডান তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
জর্ডানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রাষ্ট্রদূত ফুয়াদ মাজালি বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ আল-আকসা মসজিদের ঐতিহাসিক ও আইনি বিদ্যমান অবস্থার স্পষ্ট লঙ্ঘন। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান, যাতে ইসরাইলের ওপর চাপ প্রয়োগ করে আল-আকসা মসজিদের বিরুদ্ধে চলমান লঙ্ঘন বন্ধ করা সম্ভব হয়।
ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসও একই নিন্দা জানিয়েছে। সংগঠনটি এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘এই প্রকাশ্য আগ্রাসনের পরিণতি দখলদার ইসরাইল ও তাদের বসতি স্থাপনকারীদেরই ভোগ করতে হবে।’
জেরুজালেমের পুরোনো শহরে অবস্থিত আল-আকসা মসজিদ ইসলাম ধর্মের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান। একই স্থানকে ইহুদিরা তাদের সবচেয়ে পবিত্র ধর্মীয় স্থান হিসেবে বিবেচনা করে। দশকের পর দশক ধরে এই আল-আকসা প্রাঙ্গণের দেখভাল করছে জর্ডানের ইসলামিক ওয়াকফ কর্তৃপক্ষ, যাদের নিয়ম অনুযায়ী ইহুদিরা সেখানে প্রবেশ করতে পারে কিন্তু প্রার্থনা করার অনুমতি নেই।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন