প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং নির্বাচনি উত্তেজনার কারণে ১০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে ইন্টারনেট ব্যবহারে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। জুনের শুরু থেকে এই অঞ্চলে মোবাইল ডাটা এবং ব্রডব্যান্ড সেবা আংশিক ও পূর্ণাঙ্গভাবে বন্ধ থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিক্ষোভের পর তিন ধাপে স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যার শেষ ধাপ সম্পন্ন হয় ১০ আগস্ট। নতুন সরকার গঠিত হলেও ইন্টারনেট সেবা স্বাভাবিক না হওয়ায় স্থানীয় জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অনলাইন ব্যাংকিং ওয়েবসাইট ও অ্যাপ ব্যবহারে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় পুরো অঞ্চলে ডিজিটাল লেনদেন এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্থবির হয়ে গেছে। একই সঙ্গে অনলাইনের সুবিধা না থাকায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবর্ষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সরকার বাধ্য হয়ে ভর্তি পরীক্ষাও পিছিয়ে দিয়েছে।
ইন্টারনেট বন্ধের বিষয়টি পর্যবেক্ষণকারী বৈশ্বিক স্বাধীন সংস্থা 'নেটব্লকস' নিশ্চিত করেছে যে, গত ৫ জুন থেকে ওই অঞ্চলে আংশিক ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট বা সংযোগ বিচ্ছিন্নতার ঘটনা ঘটছে।
মূলত, এই ঘটনার সূত্রপাত ঘটে ২৭ জুলাইয়ের নির্ধারিত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। ৫ জুন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তৃণমূলভিত্তিক সংগঠন ‘জম্মু কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি’ (জেকেজেএএসি)-কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। সংগঠনটি আইনসভায় শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি আসন বাতিলের দাবি জানিয়ে আন্দোলন করে আসছিল। এই নিষেধাজ্ঞার পর কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থান নেয় এবং ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেয়, যা পরবর্তীতে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের প্রাণঘাতী সংঘর্ষে রূপ নেয়।
স্থানীয় অধিবাসী এবং বিভিন্ন সংগঠনের হিসাব অনুযায়ী, এসব রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাত সদস্যসহ নিহতের সংখ্যা ৫০ ছাড়িয়েছে। তবে মৃত্যুর এই সংখ্যা স্বাধীন কোনো মাধ্যম থেকে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, কাশ্মীর ভূখণ্ডটি ভারত এবং পাকিস্তান উভয় দেশই নিজেদের বলে দাবি করে। পাকিস্তান-শাসিত অংশটি একটি আধা-স্বায়ত্তশাসিত ব্যবস্থার অধীনে পরিচালিত হয়, যেখানে নিজস্ব প্রধানমন্ত্রী এবং ৪৫ সদস্যের আইনসভা রয়েছে। এই আইনসভার ১২টি আসন পাকিস্তানের অন্যান্য অঞ্চলে বসবাসকারী কাশ্মীরের শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত। সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণে কয়েকটি বিক্ষোভপ্রবণ ঘাঁটিতে ভোট গ্রহণ সম্ভব না হলেও বাকি অংশের নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে নতুন সরকার গঠন করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন