প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে রংপুর অঞ্চলের আবহাওয়ার চিত্র ক্রমাগত পরিবর্তন হচ্ছে। বর্ষার সময় যখন ঘন বৃষ্টিতে প্রকৃতির ঠান্ডা হওয়ার কথা, তখন তীব্র গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। যদিও কয়েক দিন আগে বৃষ্টিপাত হয়েছিল, সেই স্বস্তি স্থায়ী হয়নি। আবারও মৃদু তাপপ্রবাহে পুড়ছে রংপুর বিভাগ। এর সাথে যুক্ত হয়েছে ঘন ঘন লোডশেডিংও। জনদুর্ভোগ ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। রোগী, শিক্ষার্থী এবং কর্মজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।
রংপুর আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, আজ শনিবার (৪ জুলাই) বিকেল ৩টায় রংপুরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি, সৈয়দপুরে সর্বোচ্চ ৩৭ ডিগ্রি, নীলফামারীতে ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি এবং দিনাজপুরে ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই এলাকার সব জেলায় মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।
সরাসরি গিয়ে দেখা গেছে, তীব্র গরমের কারণে আজ দুপুরে নগরের বিভিন্ন সড়কে মানুষের চলাচলও ছিল তুলনামূলক কম। প্রচণ্ড গরমের হাত থেকে বাঁচতে বেশির ভাগ মানুষ প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না।
অন্যদিকে, আবহাওয়ার এই অস্বাভাবিক পরিবর্তনের কারণে জ্বর, সর্দি-কাশি সহ বিভিন্ন মৌসুমি রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। চিকিৎসকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রোগীর চাপ ক্রমেই বাড়ছে।
পরিবেশবিদদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন এবং অভিন্ন নদীর পানি একতরফা প্রত্যাহারের কারণে উত্তরাঞ্চল অদ্ভুত জলবায়ু পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে। ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার, যমুনা, করতোয়া, আত্রাই, যমুনেশ্বরী, পুনর্ভবা এবং আরও অনেক নদী জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে মরে যেতে বসেছে।
উজানে আন্তর্জাতিক অভিন্ন নদীগুলো থেকে অব্যাহত এবং একতরফা পানি প্রত্যাহারের ফলে নদীগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। এর ফলে কৃষি, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
তারা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বর্তমান আবহাওয়ার ধারা অদ্ভুত ও অনিশ্চিত আচরণ করছে। এটি কৃষি সহ সব খাতে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বছরের পর বছর ধরে দিন ও রাতের গড় তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে। এতে আবহাওয়ায় একটি অস্বাভাবিকতা তৈরি হচ্ছে। শীতে তীব্র শীত অথবা গ্রীষ্মে প্রচণ্ড তাপের সৃষ্টি হচ্ছে। আবার আষাঢ়-শ্রাবণে বৃষ্টি নেই। বর্ষায় তাপদাহ বইছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বৃষ্টিপাত, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরা, তীব্র শীত ও তাপ, সমুদ্র ও ভূ-পৃষ্ঠের উষ্ণতা বৃদ্ধি, পানি দূষণ, পানি ও মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধি, জলজ ব্যবস্থার অবক্ষয়, নদীতে পলি জমা, নদী শুকিয়ে যাওয়া এবং নদী ভাঙনের ঘটনাগুলি ঘটছে।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গিয়েছে, বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে রংপুর বিভাগজুড়ে লোডশেডিং পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে।
নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) সূত্রে জানা গেছে, রংপুর বিভাগে বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা ৮৫০ থেকে ৯০০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ হচ্ছে প্রায় ৭০০ মেগাওয়াট। ফলে চাহিদা মেটাতে বাধ্য হয়ে বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতায় গরমের কষ্ট আরও বেড়ে গিয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। পাশাপাশি, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনার অসুবিধা হচ্ছে।
রংপুর আবহাওয়া অফিসের আবহওয়ার বিশেষজ্ঞ মোস্তাফিজার রহমান বাসসকে জানিয়েছেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টি হলে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে এবং মানুষ স্বস্তি পেতে পারেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন