প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রত্যাশিত নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। আইএমএফ, অর্থাৎ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল, আর্থিক সক্ষমতা, রাজস্ব আহরণ এবং সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর সম্ভাব্য চাপের কথা মাথায় রেখে বলেছে যে, নতুন পে-স্কেল অন্তত দুই বছর স্থগিত রাখা উচিত। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে এখনই এই সুপারিশ গ্রহণের চিন্তা নেই। বরং এই বিষয়টি আরো বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করে বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর কৌশল নির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
অর্থ বিভাগ সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুসারে, সম্প্রতি ঢাকা সফরের সময় আইএমএফের প্রতিনিধিদল অর্থ বিভাগের সঙ্গে বৈঠক করে নবম পে-স্কেলের আর্থিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আইএমএফের মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলে সরকারের বার্ষিক ব্যয় ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে বাজেট ঘাটতি বাড়ানোর পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেতে পারে এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এই সমস্ত বিষয়ে আইএমএফ অন্তত দুই বছর পে-স্কেল বাস্তবায়ন স্থগিত রাখার সুপারিশ করেছে।
এদিকে সরকার এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য আরো আলোচনা ও বিশ্লেষণের পথে অগ্রসর হয়েছে। গত রোববার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সচিব কমিটির সুপারিশ, প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো, সম্ভাব্য খরচ এবং বাস্তবায়নের নানা সীমাবদ্ধতাকে নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ সচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বৈঠকে নতুন পে-স্কেলের আর্থিক প্রভাব, রাজস্ব আহরণের সক্ষমতা এবং ব্যয় ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে আলোচনা হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি আরো বিশ্লেষণ করে সুপারিশ দেয়ার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন।
জানা গেছে, আগামী অক্টোবরে থাইল্যান্ডে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সভায় এই বিষয়ে আরও আলোচনা হতে পারে। এরপর নভেম্বরে আইএমএফের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফরে আসবে এবং নতুন ঋণ কর্মসূচির পাশাপাশি নবম পে-স্কেলের আর্থিক প্রভাব নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করবে। তবে সরকার আশা করছে, ওই বৈঠকের আগে নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সক্ষম হবে, যেন বিষয়টি নতুন করে আলোচনা কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত না হয়।
অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, নবম পে-স্কেলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে অথবা আগামী সপ্তাহের কোনো এক মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদনের জন্য এই প্রস্তাব উত্থাপন করা হতে পারে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, সরকার নীতিগতভাবে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে চায় না। তবে সরকারি অর্থব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ এড়াতে কার্যকরী সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করতে গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।
বর্তমানে কার্যকর অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল ২০১৫ সাল থেকে চালু রয়েছে। বিশেষকরে গত এক দশকের মধ্যে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন কাঠামোয় কোনো বড় পরিবর্তন আসেনি। এ সময়ে মূল্যস্ফীতি, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরেই নতুন পে-স্কেলের দাবি জানিয়ে আসছেন।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে প্রায় ১৫ লাখ সরকারি চাকরিজীবী এবং কয়েক লাখ পেনশনভোগী এই বৈঠকের আওতায় আসবেন। নতুন পে-স্কেলের অধীনে মূল বেতনের পাশাপাশি বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাবও এই প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এ সময়ে বাংলাদেশ ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের আইএমএফ ঋণ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। একইসঙ্গে প্রায় সাড়ে ৬ বিলিয়ন ডলারের নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলছে।
এই পরিস্থিতিতে আইএমএফ সরকারের প্রতি বড় ধরনের পুনরাবৃত্ত ব্যয় বাড়ানোর আগে রাজস্ব সক্ষমতা, বাজেট ঘাটতি এবং সামষ্টিক অর্থনীতির সম্ভাব্য ঝুঁকি সতর্কভাবে বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন