প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলা মডেল মসজিদে জামায়াতে ইসলামীর নারী সংগঠনের কোরআন শিক্ষা প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজনের জেরে দলটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে দুই পক্ষের অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন। গতকাল রোববার বিকেলে তাদের মুখোমুখি অবস্থান ঘিরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঘটনার সূচনা ঘটে গত শনিবার। ওই দিন দুপুরে উপজেলা মডেল মসজিদের একটি কক্ষে জামায়াতে ইসলামীর নারী বিভাগ 'তালিমুল কোরআন' প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। এতে শতাধিক নারী অংশগ্রহণ করেন। স্থানীয় সূত্রগুলো জানাচ্ছে, কর্মসূচি চলাকালে বিএনপি নেতারা সরকারি প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্ন করেন। এ নিয়ে জামায়াতের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের তর্কাতর্কি ঘটে। বিষয়টি তখনই কাটতে না কাটতেই একটি ফেসবুক আইডি থেকে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মন্টু মিয়াকে নিয়ে মানহানিকর একটি পোস্ট দেওয়া হয়। সেই পোস্টটি শেয়ার করেন ছাত্রশিবিরের ওয়ার্ড পর্যায়ের এক নেতা। এরই প্রেক্ষিতে রোববার দুপুরে বিএনপি নেতাকর্মীরা ওই নেতাকে মারধর করেন।
জামায়াতের নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, প্রশিক্ষণ চলাকালে নারী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কয়েকজন বিএনপি নেতাকর্মী খারাপ আচরণ করেন। প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করলে বিএনপি পাল্টা কর্মসূচি দেয়। এ সময় জামায়াতের ৪ নেতাকর্মীকে মারধর করা হয়।
বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, মডেল মসজিদে রাজনৈতিক গোপন বৈঠকে বসেছিলেন জামায়াতের নারী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। সরকারি প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক দলের আয়োজনের বিষয়ে প্রশ্ন তুললে তারা বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। এমনকি বিকালে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জামায়াত কর্মীরা মিছিল করেন। সেখানে বিএনপি ও সরকারবিরোধী স্লোগান দেওয়া হয়। প্রতিবাদ করলে বিএনপির পাঁচজনকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়।
বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের রোববার বিকেলে নিজ কার্যালয়ে যেতে বলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিন। সেখানেও দুই পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি ঘটে। উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আবেদ উদ দৌলা টিটন বক্তব্য রেখেছেন, 'শনিবার মা-বোনদের মডেল মসজিদে আটকে রেখে আমাদের প্রতিপক্ষ গালাগাল করেছে। রোববার দুপুরে তারা আমাদের দলের এক কর্মীকে নির্যাতন করেছেন। বিকালে ইউএনও আমাদের ডাকেন। গিয়ে দেখি, বিপক্ষ দলের নেতাকর্মীরা অবস্থান করছে। সেখানে তাদের সঙ্গে আমাদের তর্কাতর্কি হলে বাইরে অবস্থান নেওয়া আমাদের ৫ নেতাকর্মীকে মারধর করা হয়।'
তিনি আরও বলেন, পুলিশি পাহারায় তারা সেখান থেকে এসে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করেছে। মডেল মসজিদ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছিল বলেও জানান।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল হাসান তনু বলেছেন, 'প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া উপজেলা মডেল মসজিদে একটি রাজনৈতিক দলের নারী কর্মীরা তাদের কার্যকলাপ চালিয়েছে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে এমন ঘটনার কারণে এলাকাবাসী তাদের ধাওয়া দিয়ে বের করে দেয়। আবার আমাদের উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মন্টু মিয়াকে নিয়ে ফেসবুকে বাজে মন্তব্য করা হয়েছে। এটিও মেনে নেওয়া যায় না। এর সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া দরকার।' তিনি আরও বলেন, শহরে তারা লাঠিসোটা নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহার করেছে। এজন্য তাদের (জামায়াত) বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
দামুড়হুদা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আজাদ রহমান জানিয়েছেন, ছাত্রশিবিরের সাবেক এক কর্মী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। শহরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে আজ সোমবার বিকেল পর্যন্ত কোনো পক্ষ মামলা বা অভিযোগ করেনি।
ইউএনও লাভলী ইয়াসমিন জানিয়েছেন, অনুমতি ছাড়া মডেল মসজিদে রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি আয়োজনের যে অভিযোগ উঠেছে, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন। ইতোমধ্যে উপজেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপারভাইজার শাহজাহান আলীকে শোকজ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সুসঙ্গত রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন