প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ীতে আছমা আক্তার (২৬) নামে এক গৃহবধূকে হত্যা করেছেন তার তৃতীয় স্বামী মো. মুহাসিন মাতুব্বর। মুহাসিন মাতুব্বর দুই বিয়ের তথ্য গোপন করে তৃতীয় বিয়ে করেছিলেন।
এই ঘটনাটি ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) আসামি মুহাসিন মাতুব্বর (৩২) কে গ্রেপ্তার করাতে সক্ষম হয়।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পিবিআইয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, টঙ্গীবাড়ী উপজেলার বলিয়াগাঁও ইউনিয়নের পূর্ব বলিয়াগাঁও এলাকায়, মুহাসিন মাতুব্বর স্ত্রী আছমা আক্তার ও চার বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
কিছুদিন আগে তাদের ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী বিয়ে হয়। তবে বিয়ের পূর্বের আছমার দুটি বিয়ের বিষয়টি মুহাসিনের কাছে গোপন ছিল, যা নিয়ে দাম্পত্য কলহ প্রায়ই হয়ে থাকে। পিবিআই আরো জানায়, হত্যার ঘটনাটি ঘটনার আগের দিন রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ তীব্র আকার নিতে শুরু করে। পরদিন ৭ জুলাই সকালে, নাস্তা তৈরি না করা এবং মাথা ব্যথা নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মুহাসিন আছমাকে মারধর করেন।
এক পর্যায়ে, মুহাসিন আছমার গলা চেপে ধরা ও ধাক্কা দেওয়ার ফলে আছমা ঘরের কাঠের পাটাতনে আঘাত পেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর মুহাসিন তার স্ত্রীকে হত্যা করে ওড়না দিয়ে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করেন। তবে তিনি সেজন্য ব্যর্থ হন এবং মরদেহকে খাটের ওপর রেখে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই শামীম তালুকদার টঙ্গীবাড়ী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পিবিআই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে।
পিবিআই মুন্সীগঞ্জ জেলার একটি দক্ষ দল গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরে ৮ জুলাই গোপালগঞ্জ জেলার মকসুদপুর এলাকা থেকে প্রধান আসামি মুহাসিন মাতুব্বরকে গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পিবিআই জানিয়েছে, পারিবারিক কলহ এবং পূর্বের বিয়ের তথ্য গোপন রাখার কারণে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তদন্ত কার্যক্রম এখনও অব্যাহত রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন