প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বিয়ের বরযাত্রা সাধারণত গাড়ি, মাইক্রোবাস অথবা ঘোড়ার গাড়ির মাধ্যমে হয়ে থাকে। কিন্তু গাইবান্ধার সাকিব মিয়া একটি ব্যতিক্রমী আয়োজনের মাধ্যমে আলোচনায় এসেছেন। পরিবারের একমাত্র পুত্রের বিয়েতে মা-বাবার দীর্ঘদিনের শখ পূরণের উদ্দেশ্যে হাতির পিঠে চড়ে কনের বাড়িতে পৌঁছান তিনি। এই বিশেষ বরযাত্রা দেখতে কনের বাড়িতে বিভিন্ন বয়সের উৎসুক জনতা ভিড় করেন।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের চকনদী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। বর সাকিব মিয়া চকনদী গ্রামের সাইদ আলীর সন্তান। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন। তার কনে সুরাইয়া আক্তার একই উপজেলার হিংগারপাড়া গ্রামের খোকন মিয়ার বড় মেয়ে।
পরিবারের সূত্র অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে সাকিব হাতির পিঠে চড়ে কনের বাড়ির দিকে রওনা হন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন একমাত্র দুলাভাই। পরিবারের অন্যান্য সদস্য এবং বরযাত্রীরা মাইক্রোবাসে করে কনের বাড়িতে পৌঁছান।
পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ধাপেরহাট ইউনিয়নের হিংগারপাড়া গ্রামে কনের বাড়িতে পৌঁছান সাকিব। হাতির পিঠে বরের আগমনের খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে সেখানে জড়ো হন আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বয়স্কদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল দেখা যায়।
সন্ধ্যা ৭টার দিকে সুরাইয়া আক্তারের সঙ্গে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয় সাকিবের। যৌতুকবিহীন এই বিয়েতে দেনমোহর নির্ধারণ করা হয় আড়াই লাখ টাকা। বিয়ের আসরে নববধূকে দেনমোহরের অর্থ বুঝিয়ে দেন বর। পরে আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাতেই নববধূকে নিয়ে বাড়ি ফেরেন তিনি।
বরের বোন জানান, পরিবারের একমাত্র ছেলের বিয়েতে মা-বাবার দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল ছেলেকে হাতির পিঠে চড়িয়ে বিয়ে করানোর। সেই শখ পূরণ করতেই নেওয়া হয় এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।
সাকিব মিয়া বলেন, ‘বিয়ে জীবনের একটি বিশেষ দিন, যা বারবার আসে না। মা-বাবার দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল আমাকে হাতির পিঠে চড়িয়ে বিয়ে করাবেন। তাদের ইচ্ছা পূরণ এবং দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে ২০ হাজার টাকা দিয়ে হাতিটি ভাড়া করে আনা হয়। মা-বাবার শখ পূরণ করতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত।’
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তাদের এলাকায় হাতির পিঠে চড়ে বরের কনের বাড়িতে যাওয়ার ঘটনা এবারই প্রথম। এ কারণে ব্যতিক্রমী বরযাত্রাটি দেখতে আশপাশের অনেক মানুষ ছুটে আসেন।
ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম শিপন জানান, মা-বাবার ইচ্ছা পূরণ করতেই হাতির পিঠে চড়ে বিয়ের এই আয়োজন করা হয়েছে। বর ও হাতিকে দেখতে বিয়েবাড়িতে শত শত মানুষের ভিড় জমে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন