প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে একসঙ্গে তিন পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন কল্পনা বেগম। নবজাতকদের নাম রাখা হয়েছে হাসান, হোসাইন ও বেল্লাল। জন্মের পর হাসানের ওজন ২ কেজি এবং হোসাইন ও বেল্লালের ওজন ১ কেজি ৯০০ গ্রাম করে নির্ধারণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, তিন নবজাতকই সুস্থ রয়েছে। তবে অসুস্থ মা ও তিন সন্তানের চিকিৎসা, খাবার এবং সিজারের খরচ বহন করতে গিয়ে পরিবারটি আর্থিক সংকটে পড়েছে।
পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, কল্পনার সিজারিয়ান অপারেশনটি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সম্পন্ন হয়। বর্তমানে তার চিকিৎসার জন্য প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকার ওষুধ প্রয়োজন হচ্ছে। পাশাপাশি তিন নবজাতকের জন্য প্রতিদিন দুই প্যাকেট ফর্মুলা দুধ কিনতে খরচ হচ্ছে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। এর মধ্যে কল্পনার সিজারের কাটা স্থানে ইনফেকশন দেখা দিয়েছে বলেও পরিবারটি জানিয়েছে।
একসঙ্গে তিন সন্তান জন্ম নেওয়ায় কল্পনা বেগম আনন্দিত হলেও নিজের অসুস্থতা ও পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। তার স্বামী জায়দুল বাকপ্রতিবন্ধী। তিনি আন্ধারি ঝাড় বাজারের একটি হোটেলে কাজ করেন। আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় কল্পনা বর্তমানে তার মা-বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন।
কল্পনা বেগম বলেন, "একসঙ্গে তিন সন্তান হওয়ায় আমি অনেক খুশি। আমার স্বামী বাকপ্রতিবন্ধী। তিনি মেসিয়ারের কাজ করেন। দরিদ্র ও অসহায় হওয়ায় আমার মা-বাবার বাড়িতে আছি। সেখানে বিভিন্ন মানুষের সহযোগিতা নিয়ে চিকিৎসা ও তিন সন্তানের খাবারের ব্যবস্থা করতে প্রায়ই হিমশিম খাচ্ছি। প্রতিদিন তো এক মানুষ সহযোগিতা করবে না। এই সন্তানদের জন্য সরকারি বা অন্য কোনো সহযোগিতা পেলে আমি খুশি হব।"
কল্পনার মা-বাবা জানান, তারা গরিব ও অসহায়। তিন নবজাতকের জীবন রক্ষা ও চিকিৎসার জন্য সরকারি অফিস, বিভিন্ন সংস্থা, বিত্তবান ও দানশীল মানুষের সহযোগিতা চান তারা।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেব নাথ বলেন, "পরিবারটির খোঁজখবর নিয়ে প্রাথমিকভাবে তিন হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন