প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
সরকার রিয়ার এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমকে ১৮তম নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঘোষণা করা হয়েছে যে, আগামী ২৩ জুলাই অপরাহ্ন থেকে ভাইস এডমিরাল হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধানের দায়িত্ব তিনি গ্রহণ করবেন। এই দায়িত্ব তিনি আগামী ২২ জুলাই ২০২৯ পর্যন্ত তিন বছরের জন্য পালন করবেন।
তিনি বর্তমান নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসানের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন।
নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম ১৯৮৭ সালের ১ জানুয়ারি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগদান করেন। রয়েল মালয়েশিয়ান নৌবাহিনীতে বিশেষ কৃতিত্বের সঙ্গে নৌ প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার পর, ১৯৮৯ সালের ১ জুলাই তিনি এক্সিকিউটিভ শাখায় কমিশন লাভ করেন। তিনি তার ব্যাচের (৮৭-এ) জ্যেষ্ঠতা ও মেধায় প্রথম স্থান অধিকারী ছিলেন।
রিয়ার এডমিরাল আজীম বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) থেকে মেরিটাইম গভর্ন্যান্স বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
এছাড়াও, তিনি এমফিল ডিগ্রি ছাড়াও স্ট্র্যাটেজিক, ডিফেন্স এবং অপারেশনাল স্ট্যাডিজ বিষয়ে দেশের পাশাপাশি বিদেশ থেকে প্রথম শ্রেণির তিনটি মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন।
খোন্দকার মিসবাহ ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড এন্ড স্টাফ কলেজ (ডিএসসিএসসি) এবং ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (এনডিসি) আওতাভুক্ত আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স (এএফডব্লিউসি) এর একজন কৃতি গ্র্যাজুয়েট। তিনি ছাত্র জীবনে মাধ্যমিক (এসএসসি) ও উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) উভয় পরীক্ষায় সম্মিলিত মেধা তালিকার স্থান লাভ করে রাষ্ট্রপতির নিকট চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করেন।
প্রায় চার দশকের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে, খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড, স্টাফ ও নেতৃত্বমূলক দায়িত্ব খুব দক্ষতা ও সফলতার সঙ্গে পালন করেছেন।
সামরিক জীবনে, তিনি কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল (কমচিট), কমান্ডার ঢাকা নৌ অঞ্চল (কমঢাকা), কমান্ডার সাবমেরিন (কমসাব) এবং কমান্ড্যান্ট বাংলাদেশ নেভাল একাডেমি (বিএনএ) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এছাড়া, তিনি নৌবাহিনী সদর দপ্তরে পরিচালক, নৌ অপারেশন্স এবং পরিচালক, নৌ পরিকল্পনা হিসেবেও নিয়োজিত ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ফ্রিগেট বানৌজা ওমর ফারুক, বানৌজা এস আর আমিন, বানৌজা নির্ভয়, বানৌজা সৈকত এবং নৌ ঘাঁটি বানৌজা তিতুমীর-এ অধিনায়কত্ব করেছেন।
তিনি বাংলাদেশ নেভাল একাডেমি, ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড এন্ড স্টাফ কলেজ (ডিএসসিএসসি) এবং ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (এনডিসি)-এ প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে, মিসবাহ উল আজীম লেবানন এবং গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বশেষ, ওমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ-ওমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন।
রিয়ার এডমিরাল আজীম নৌবাহিনীর সর্বোচ্চ শান্তিকালীন পদক ‘নৌবাহিনী পদক’ (এনবিপি), ‘নৌ-পারদর্শিতা পদক’ (এনপিপি), ‘জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কার’ এবং ‘জাতীয় স্কাউট পুরস্কার’ (রৌপ্য ইলিশ পদক) অর্জন করেছেন।
এছাড়া, তিনি তিনবার নৌবাহিনী প্রধানের প্রশংসাসূচক ইনসিগনিয়া লাভ করেছেন। তিনি ‘বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন’ পুরস্কার, ‘সেরা ব্যক্তিগত গবেষণাপত্র পুরস্কার’ এবং এন্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার বিশেষায়িত প্রশিক্ষণে সেরা শিক্ষার্থী পুরস্কারও অর্জন করেছেন।
পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি, মিসবাহ উল আজীম একজন মননশীল পাঠক, লেখক ও গবেষক। সামুদ্রিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা এবং সামরিক ও নৌ-কৌশলগত বিষয়ে সমাদৃত জার্নাল ও সাময়িকীতে তার অনেক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।
খেলাধুলায় তার ব্যক্তিগত আগ্রহের মধ্যে রয়েছে গলফ, বাস্কেটবল, দাবা ও টেবিল টেনিস। বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় তিনি সাবলীল এবং মালে ও ফরাসি ভাষায় তার ব্যবহারিক দক্ষতা রয়েছে।
দীর্ঘ চার দশকের কর্মজীবনে, তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও দেশ প্রেমের প্রতি উজ্জীবিত হয়ে অসাধারণ পেশাদারিত্ব ও সামরিক সক্ষমতার স্বাক্ষর রেখেছেন। তিনি বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে সবসময় দৃঢ় অঙ্গীকারবদ্ধ।
ব্যক্তিগত জীবনে, তিনি বেগম নুরতাজ আজীমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ। এই দম্পতির দুই কন্যা সন্তান রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন