প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম মন্তব্য করেছেন যে, সরকার সৌরবিদ্যুৎ, দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও বৃক্ষরোপণে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করছে।
তিনি উল্লেখ করেন, সৌরবিদ্যুতের প্রসার, বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বৃদ্ধি, দূষণকারী ইটভাটা বন্ধ করা, খাল খনন ও পুনরুদ্ধার এবং ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের উদ্যোগের মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ডেলিগেশন ও ইউরোপীয় বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
এ সভার আয়োজন পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, জলবায়ু অগ্রাধিকার এবং কপ-৩১ বিষয়ক ইউরোপীয় ইউনিয়নের আউটরিচ কর্মসূচির অংশ হিসেবে করা হয়েছে।
শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, সৌরশক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির উদ্যোগ সরকারের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার। আবাসিক ভবন, শিল্পকারখানা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন এবং উপযুক্ত স্থানে সৌরভিত্তিক সেচ ব্যবস্থার প্রসারের সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এতে প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহে বৈচিত্র্য আনা সম্ভব হবে। সৌরবিদ্যুতের প্রসারে মানসম্মত প্রযুক্তি, প্রয়োজনীয় অর্থায়ন, দক্ষ জনবল এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী।
বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, অবৈধ ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ইটভাটা বন্ধ করা এবং পরিবেশগত বিধিবিধান কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা জরুরি। ইট উৎপাদনে দূষণ কমানোর পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ব্লক ও বিকল্প নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহার বাড়াতে সরকার কাজ করছে।
ইটভাটার দূষণের পাশাপাশি নির্মাণকাজের ধুলা, যানবাহনের নির্গমন ও সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কাজ করছে সরকার।
২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের উদ্যোগকে দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত সুফলে রূপ দিতে উপযুক্ত স্থানে উপযুক্ত প্রজাতির গাছ লাগানোর কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশীয় প্রজাতিকে অগ্রাধিকার দিয়ে বনভূমি, উপকূলীয় অঞ্চল, সড়কের পাশ এবং উপযুক্ত প্রাতিষ্ঠানিক ও সামাজিক পরিসরে বৃক্ষরোপণ এগিয়ে নিতে হবে।
শুধু চারা রোপণ নয়, পরিচর্যা, সুরক্ষা এবং গাছের বেঁচে থাকার হার নিশ্চিত করাও জরুরি।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে স্থানীয় জনগোষ্ঠী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, তরুণ সমাজ ও বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়াতে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, অতিবৃষ্টি, তাপপ্রবাহ ও লবণাক্ততার ঝুঁকি মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি, পানিসম্পদ ও অবকাঠামোর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
এসব প্রভাব মোকাবিলায় সরকারের অভিযোজন কার্যক্রমে দুর্যোগ প্রস্তুতি, আগাম সতর্কীকরণ, উপকূলীয় সুরক্ষা, বনায়ন, পানি ব্যবস্থাপনা এবং জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্থানীয় চাহিদা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগণের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
কার্বন ক্রেডিট ফ্রেমওয়ার্ক প্রসঙ্গে পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্গমন হ্রাস ও কার্বন অপসারণমূলক কার্যক্রমে বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য কাঠামো গুরুত্বপূর্ণ। এ কাঠামোয় প্রকল্প অনুমোদন, নির্গমন হ্রাসের পরিমাপ, প্রতিবেদন ও স্বাধীন যাচাই এবং একই নির্গমন হ্রাসের দ্বৈত গণনা প্রতিরোধের সুস্পষ্ট ব্যবস্থা থাকতে হবে।
তাহলে কার্বন ক্রেডিট ফ্রেমওয়ার্ক নিয়ে সরকার কাজ করছে।
তিনি বলেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার, বেসরকারি খাত ও উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন। বাংলাদেশের জাতীয় অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, পরিবেশবান্ধব পরিবহন, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ, জলবায়ু সহনশীল পানি ব্যবস্থাপনা এবং কার্বন বাজারে সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউরোপীয় অংশীদারদের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
কপ-৩১ সামনে রেখে বাংলাদেশের অভিযোজন চাহিদা এবং জলবায়ু অর্থায়নের অগ্রাধিকারগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে বাস্তবায়নযোগ্য কার্যক্রমে রূপ দিয়ে মানুষের জীবন-জীবিকা ও পরিবেশের সুরক্ষায় দৃশ্যমান সুফল নিশ্চিত করতে হবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম। উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ফার্স্ট কাউন্সেলর ও গ্রিন ইকোনমি অ্যান্ড পাবলিক সেক্টর ইনভেস্টমেন্টস বিভাগের প্রধান টোবিয়াস বিয়ারমান, বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিবেশ ও জ্বালানি উৎপাদনবিষয়ক প্রোগ্রাম ম্যানেজার তানজিনা দিলশাদ, ঢাকায় জার্মান দূতাবাসের কাউন্সেলর ও জার্মান উন্নয়ন সহযোগিতার প্রধান উলরিখ ক্লেপমান, ডেনমার্ক দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন অ্যান্ডার্স বি কার্লসেন ও প্রতিনিধি আলবার্টে ফ্যাক্সহোল্ম এবং ফ্রান্স দূতাবাসের সেকেন্ড কাউন্সেলর ক্রিশ্চিয়ান বেক।
সূত্র: বাসস
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন