প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ঢাকার মহাখালী এলাকায় দ্বিতীয় বিয়ে করায় স্বামীকে হত্যা করে মরদেহ ছয় টুকরো করার ঘটনায় স্ত্রী ফাতেমা বেগম ওরফে শিল্পীকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ঢাকার ১৬ তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ নাজমুন নাহার নিপু এই রায় ঘোষণা করেন।
সাজায় বলা হয়েছে, মরদেহ গুমের দায়ে ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে। অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম সাজা দেওয়া হয়েছে তাকে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর খন্দকার শফি নেওয়াজ নাসির।
রায় ঘোষণার সময় ফাতেমাকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে সাজা পরোয়ানা দিয়ে আবার তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০২১ সালের ৩০ মে রাত সাড়ে ১০টার সময় ঢাকা-ময়মনসিংহ রোডের আমতলী এলাকায় নীল রঙের ড্রামের ভেতর থেকে বনানী থানা-পুলিশ একজন পুরুষের মাথাবিহীন দেহ উদ্ধার করে। একই রাতে মহাখালী বাস টার্মিনালের এনা কাউন্টারের কাছে একটি ব্যাগের ভিতরে উরু থেকে খণ্ডিত দুটি পা এবং কাঁধ থেকে খণ্ডিত দুটি হাতের অংশ উদ্ধার করে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা-পুলিশ।
দুই দিন পর আলাদা আলাদা স্থান থেকে ছয় টুকরো লাশ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনার মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয় ফাতেমাকে। গ্রেপ্তারের পর ফাতেমা হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন।
ফাতেমা পুলিশকে জানিয়েছেন, পারিবারিক কলহ, টাকা-পয়সা বন্টন, এবং একাধিক বিয়েকে কেন্দ্র করে ময়না মিয়া ওরফে শাকিলের সাথে তার মনোমালিন্য হয়। এক পর্যায়ে ফাতেমা পরিকল্পনা করে তার অটোরিকশার চালক স্বামীকে ঘুমের ট্যাবলেট খাইয়ে নিস্তেজ করেন এবং পরে জবাই করে লাশ ছয় টুকরো করেন। একটি লাল রঙের কাপড়ের ব্যাগে মাথা, শরীরের মূল অংশকে একটি নীল রঙের পানির ড্রামে এবং খণ্ডিত দুই পা ও দুই হাতকে একটি বড় কাপড়ের ব্যাগে ঢুকিয়ে রাখেন।
এরপর, ১ হাজার ৩০০ টাকায় রিকশা ভাড়া করে প্রথমে আমতলী এলাকায় শরীরের মূল অংশ ফেলে দেন। এরপর মহাখালী এনা বাস কাউন্টারের সামনে খণ্ডিত দুই হাত ও দুই পা ভর্তি ব্যাগ রেখে বাসায় চলে যান। সেখান থেকে খণ্ডিত মাথা রাখা ব্যাগটি নিয়ে বনানী ১১ নম্বর ব্রিজের পূর্ব পাশ থেকে গুলশান লেকে ফেলে দিয়ে বাসায় ফিরে আসেন।
এ ঘটনায় ময়না মিয়ার দ্বিতীয় স্ত্রী নাসরিন তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় একই বছরের ১ জুন মামলা দায়ের করেন। ২০২২ সালের ২৪ অক্টোবর ফাতেমাকে অভিযুক্ত করে পুলিশ অভিযোগপত্র দাখিল করে। ২০২৩ সালের ১২ মার্চ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন আদালত। মামলার বিচার চলাকালে আদালতে ২৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৭ জন সাক্ষী সাক্ষ্য প্রদান করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন