প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার স্বেচ্ছাসেবী ও সমাজকর্মী মামুন বিশ্বাস ৩৮ বছর বয়সে ১৫৬ জন অসহায় ও দরিদ্র মেয়ের বিয়ের দায়িত্ব নিয়ে মানবিকতার এক অনন্য উদাহরণ স্থাপন করেছেন।
নিজের উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতা নিয়ে তিনি জেলার বিভিন্ন এলাকার দরিদ্র ও অভিভাবকহীন মেয়েদের বিয়ে দিয়ে ১৫৬ মেয়ের ‘বাবা’ হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেছেন।
দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ব্যক্তিগত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আসছেন মামুন বিশ্বাস। অর্থের অভাবে যেসব পরিবার মেয়ের বিয়ে দিতে পারছিল না, তাদের জন্য ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সহযোগিতা সংগ্রহ করে বিয়ের আয়োজন করেন তিনি। প্রতিটি বিয়ের আয়োজন সাধ্যমতো করে মেয়েদের নতুন জীবন শুরুর সুযোগ করে দেওয়ার চেষ্টা করেন।
সম্প্রতি মাত্র ছয় দিনের ব্যবধানে কামারখন্দ উপজেলার দুই অসহায় মেয়ের বিয়ের দায়িত্ব নিয়ে তিনি আবারও আলোচনায় আসেন।
কামারখন্দ উপজেলার ঝাঐল ইউনিয়নের তেঘরি গ্রামের আবু তালেব ও সামিদা দম্পতির মেয়ে আতিয়া খাতুনের বিয়ের জন্য ফেসবুকের মাধ্যমে প্রায় ৩ লাখ টাকা সহযোগিতা সংগ্রহ করা হয়। গত ২৫ সেপ্টেম্বর সেই অর্থে আতিয়ার বিয়ের আয়োজন করা হয়।
এর মাত্র ছয় দিন পর, ১ অক্টোবর কামারখন্দের জামতৈল গ্রামের সুচিত্রা রানি দাসের বিয়ের দায়িত্ব নেন মামুন বিশ্বাস। সুচিত্রার বিয়েতে প্রায় ২ লাখ ৩২ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়। আর্থিক সংকটের কারণে একাধিকবার বিয়ে ভেঙে যাওয়া সুচিত্রার জন্যও জমকালো বিয়ের আয়োজন করা হয়।
এভাবে একের পর এক অসহায় মেয়ের পাশে দাঁড়িয়ে মামুন বিশ্বাস এখন ১৫৬ মেয়ের অভিভাবক হিসেবে পরিচিত। মাত্র ৩৮ বছর বয়সে ১৫৬টি মেয়ের বিয়ের দায়িত্ব নেওয়ার এই উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রশংসা কুড়িয়েছে।
মামুন বিশ্বাসের উদ্যোগে বিয়ে হওয়া মেয়েরা এখন নতুন সংসার শুরু করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন। বিয়ের পরও তিনি তাদের নিজের মেয়ের মতোই মনে করেন। তাই ১৫৬ জন মেয়ের বিয়ের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মামুন বিশ্বাস এখন শুধু একজন স্বেচ্ছাসেবী নন, বরং ১৫৬ মেয়ের ‘বাবা’।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন