প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক এবং শুল্ক ছাড় বা অব্যাহতির গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হয়েছে, যা কানাডা থেকে আমদানি করা বিভিন্ন পণ্যের ওপর প্রযোজ্য। নতুন তালিকায় মোটরবোট এবং বিভিন্ন ধরনের পনির অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
এছাড়া, টয়লেট পেপার, মাছ ধরার ছিপের কিছু যন্ত্রাংশ এবং সিমেন্টকে ৫০ শতাংশ শুল্কের আওতা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। নির্বাচনের আগে যখন যুক্তরাষ্ট্রের পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ অনুভব করছে, তখন কানাডীয় পণ্যে নতুন শুল্ক কিছু মানুষের জন্য ব্যয় বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নতুন সংশোধনের ফলে কানাডা থেকে আমদানি করা কিছু পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ মার্কিন শুল্কের তালিকায় পরিবর্তন এসেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মতে, দুই দেশের মোট বাণিজ্যের তুলনায় এই শুল্কের আওতায় পড়া পণ্যের পরিমাণ অত্যন্ত নগণ্য।
নতুন শুল্কের আওতায় আসা পণ্যের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের পনির, মোটরবোট, কাগজ, অ্যালুমিনিয়াম ও ইস্পাতজাত পণ্য। এছাড়া, গদি এবং নির্দিষ্ট কিছু আসবাবও তালিকায় যুক্ত হয়েছে।
অন্যদিকে, টয়লেট পেপার, ফেসিয়াল টিস্যু, মাছ ধরার সরঞ্জাম এবং চার লিটারের বেশি ধারণক্ষমতার পাত্রে থাকা হুইস্কি ৫০ শতাংশ শুল্ক থেকে অব্যাহতি পেয়েছে।
রাস্তার বরফ গলাতে ব্যবহৃত রোড সল্ট বা লবণ এবং নির্মাণকাজে গুরুত্বপূর্ণ সিমেন্টকেও শুল্কের আওতা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
মেইন অঙ্গরাজ্যের সিনেটর সুসান কলিন্স জানিয়েছেন, রাস্তার লবণ ও সিমেন্টের ওপর শুল্কের প্রভাব তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তুলে ধরেছিলেন। আগামী নির্বাচনে তার পুনর্নির্বাচন রিপাবলিকানদের সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
নতুন শুল্ক উত্তর আমেরিকার দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যযুদ্ধের সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর আগস্টে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডা থেকে আমদানি করা প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন। এর পাল্টা জবাবে কানাডাও প্রায় একই মূল্যের মার্কিন পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করে।
কানাডার পাল্টা পদক্ষেপের জবাবে গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউস আরও কঠোর অবস্থান নেয়। তারা কানাডার কিছু অ্যালকোহলজাত পানীয় ও দুগ্ধজাত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেয়, যা ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। একই সঙ্গে কানাডীয় পণ্যের শুল্ক তালিকাতেও পরিবর্তন আনা হয়।
সর্বশেষ শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে ট্রাম্প ১৯৩০ সালের ট্যারিফ আইনের ৩৩৮ ধারা ব্যবহার করেছেন, যা তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত একটি আইন।
নতুন শুল্ক এমন কিছু পণ্যের ওপর প্রযোজ্য হবে, যেগুলো যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আওতাভুক্ত। এসব পণ্যের ওপর ট্রাম্পের আগে থেকে আরোপ করা বিভিন্ন খাতভিত্তিক শুল্কও বহাল থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা এখানেই শেষ নাও হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা গত সপ্তাহে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, কানাডা থেকে আমদানি করা গাড়ির ওপর বর্তমানে থাকা ২৫ শতাংশ শুল্ক আগামী জানুয়ারি থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার বিষয়ে ট্রাম্প যে হুমকি দিয়েছিলেন, তা এখনো বহাল রয়েছে।
ফলে, কানাডীয় পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক ও পাল্টা শুল্কের পাশাপাশি দুই দেশের গাড়ি বাণিজ্য নিয়েও আগামীতে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন