প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বাবাকে বিকেলে দাফন করা হয়েছে। কিন্তু শোক পালন করার সুযোগ পাওয়া যায়নি। রাতেই বই হাতে নিয়ে বাগেরহাট কৃষি ব্যাংকের এটিএম বুথে নিরাপত্তাকর্মীর দায়িত্ব পালন করতে বেরিয়ে পড়তে হয়েছে। এর পরের দিনে সকালে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষায় বসতে হয়। বাগেরহাটের শিক্ষার্থী ইকনের হৃদয়বিদারক এই গল্প প্রকাশ হওয়ার পরে নিরাপত্তাকর্মীদের কর্মপরিবেশ, ছুটি ও পারিশ্রমিক নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, ইকনের মতো অধিকাংশ নিরাপত্তাকর্মী বিভিন্ন বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে ব্যাংক ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। তারা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কাজ করলেও তাদের বেতন এজেন্সির কাছ থেকে দেওয়া হয়। এজেন্সিগুলো তাদের পারিশ্রমিকের একটি অংশ কেটে রাখার অভিযোগ রয়েছে। অনেক সময় নির্ধারিত কর্মঘণ্টার বাইরে রাত-দিন টানা দায়িত্ব পালন করতে হয়। আর যেসব কর্মীরা খণ্ডকালীন (পার্টটাইম) কাজ করেন, তাদের সাধারণত রাতের শিফটে দায়িত্ব পালন করতে হয়।
এদিকে, ইকনের মানবিক এই গল্প গণমাধ্যমে আসে বলে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তার পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। বাগেরহাট প্রতিনিধি রুহুল আমিন বাবু জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে ইতোমধ্যে কৃষি ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে ইকনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য চাওয়া হয়েছে।
ইকনের বাবা ইসরাফিল দাড়িয়া মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে দুপুরে তিনি মারা যান। ৪৬ বছর বয়সী ইসরাফিল মোটরসাইকেল চালিয়ে পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করতেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ইকনের দাদার বাড়ি গোপালগঞ্জে। বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডে গাড়িচালক হিসেবে চাকরি করার সুবাদে পরিবারটি বাগেরহাটে আসে। অবসরের পর দাদা গোপালগঞ্জ ফিরে গেলেও ইকনের বাবা বাগেরহাটেই থেকে যান। বর্তমানে তারা মা ও মানসিক ভারসাম্যহীন এক ভাইকে নিয়ে মাসে সাড়ে তিন হাজার টাকা ভাড়ার একটি বাসায় বসবাস করছেন।
বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে বাগেরহাট কৃষি ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা ইকনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং জানাজায় অংশগ্রহণ করেন। ওই কর্মকর্তা জানান, তিনি ইকনকে প্রয়োজনে সেদিন ডিউটিতে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
তবে সংসারের দায়িত্ব এবং বাস্তবতার কারণে ইকনকে হার মানতে হয়েছে। বাবাকে দাফনের কয়েক ঘণ্টা পরেই তিনি বই হাতে এটিএম বুথে দায়িত্ব পালন করতে যান। তার মুখ থেকে উঠে আসে সংগ্রাম, দায়িত্ববোধ ও বেদনায় মোড়া এক তরুণের জীবনের নির্মম বাস্তবতার গল্প।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন