প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলায় চুরির অভিযোগ এনে এক কিশোরের মাথা জনসম্মুখে ন্যাড়া করে অপদস্থ করার একটি ঘটনা ঘটে, যা দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর প্রশাসন তাড়াতাড়ি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং মূল অভিযুক্ত গ্রাম পুলিশ সদস্য রতন রবি দাশকে আটক করেছে। পাশাপাশি, তাকে গ্রাম পুলিশ পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
এই ঘটনাটি সোমবার (২৯ জুন) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে রংছাতি ইউনিয়নের পাঁচগাঁও বাজারের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সংঘটিত হয়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখার জন্য পদক্ষেপ নেয়।
ভুক্তভোগী কিশোর মো. রাব্বিল (১৪) উপজেলার বানাইকোনা গ্রামের মো. রফিকুল ইসলামের ছেলে। আটক রতন রবি দাশ পাঁচগাঁও গ্রামের বিন্দু রবি দাশের ছেলে। রতন স্থানীয় বাজারে একটি সেলুন পরিচালনার পাশাপাশি গ্রাম পুলিশ সদস্য হিসেবে কাজ করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে যে, পাঁচগাঁও বাজারের একটি হার্ডওয়্যারের দোকানে সাত হাজার টাকা চুরির অভিযোগে রাব্বিলকে আটক করা হয়। স্থানীয়রা জানায়, তল্লাশির সময় কিশোরের কাছ থেকে ওই টাকা উদ্ধারের পর সে অপরাধ স্বীকার করে। কিন্তু কিশোরটিকে পুলিশের হাতে তুলে না দিয়ে, গ্রাম পুলিশ সদস্য রতন রবি দাশ আইন নিজের হাতে তুলে নেন। তাকে শাস্তির জন্য শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে জনসম্মুখে মাথা সম্পূর্ণ ন্যাড়া করা হয়।
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায় যে, চুল কাটার সময় কিশোরটি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বারবার ক্ষমা প্রার্থনা করছে এবং ভবিষ্যতে আর এমন কাজ করবে না বলেও আকুতি জানাচ্ছে। কিন্তু উপস্থিত কেউ তার অনুরোধে সাড়া না দিয়ে পুরো ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।
আটকের পর রতন রবি দাশ বলেন, "বাজারে লোকজন কিশোরটিকে আটক করে আমাকে খবর দেয়। সেখানে গিয়ে উপস্থিত লোকজন ১০০ টাকার বিনিময়ে তার মাথা ন্যাড়া করে দিতে বলে। আমি তা করেছি। এখন আমি আমার কাজের জন্য অনুতপ্ত।"
রংছাতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান পাঠান বাবুল জানিয়েছেন, ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর অভিযুক্তকে ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ সদস্য হিসেবে শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানা পুলিশকে জানালে তাকে আটক করা হয় এবং সাময়িক বরখাস্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক (তদন্ত) সজল সরকার জানান, চুরির অভিযোগে কিশোরকে নির্যাতনের ঘটনায় মূল অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইউএনও এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সচেতন মহল বলছে, অপরাধের অভিযোগ থাকলেও বিচার করার দায়িত্ব আদালতের, জনসম্মুখে কাউকে অপদস্থ করা উচিত নয়। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন