প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
একবার স্থায়ী দাঁত পড়ে গেলে বা তুলে ফেলতে হলে সাধারণত প্রাকৃতিকভাবে সেই দাঁত ফিরে আসা সম্ভব হয় না। এই পরিস্থিতিতে ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট, ব্রিজ অথবা কৃত্রিম দাঁতের উপর নির্ভর করতে হয়। তবে ভবিষ্যতে দাঁত হারানোর চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা আসতে পারে। জাপানের একটি গবেষকদল এমন একটি পরীক্ষামূলক ওষুধ নিয়ে কাজ করছে, যা মানুষের শরীরে নতুন দাঁত গজাতে সহায়তা করতে পারে।
গবেষকদের তৈরি এই ওষুধের নাম ‘টিআরজি০৩৫’। এর লক্ষ্য ‘ইউএসএজি-১’ নামক একটি প্রোটিনের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করা। গবেষকদের ধারণা, এই প্রোটিন দাঁতের বিকাশে বাধা সৃষ্টি করে। ফলে প্রোটিনটিকে নিষ্ক্রিয় করতে পারলে শরীরে নতুন দাঁত গজানোর প্রক্রিয়া সক্রিয় হতে পারে।
এর আগে প্রাণীর উপর পরিচালিত গবেষণায় ইউএসএজি-১ প্রোটিনের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করে নতুন দাঁত গজানোর সম্ভাবনাময় ফল পাওয়া গিয়েছিল। সেই গবেষণার ভিত্তিতে মানবদেহে এই পদ্ধতির কার্যকারিতা যাচাইয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করেন বিজ্ঞানীরা।
মানবদেহে ওষুধটির নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা যাচাই করার জন্য ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ের পরীক্ষায় মূলত ওষুধটির নিরাপত্তা, সহনশীলতা এবং সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে মানুষের হারানো দাঁত নতুন করে গজানোর ক্ষেত্রে ওষুধটি কতটা কার্যকর, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা ও পরবর্তী ধাপের পরীক্ষার ফল প্রয়োজন।
গবেষকদের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো, ভবিষ্যতে এই চিকিৎসাপদ্ধতি মানুষের ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে চিকিৎসাটি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ লক্ষ্য বাস্তবায়ন নির্ভর করবে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফলাফল, ওষুধটির নিরাপত্তা এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের ওপর।
গবেষণাটি সফল হলে দাঁতের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে। বিশেষ করে জন্মগতভাবে দাঁতের ঘাটতি রয়েছে অথবা দাঁত হারিয়েছেন এমন মানুষের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে এখনই দাঁত পড়ে গেলে ওষুধ খেয়ে নতুন দাঁত গজানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে, এমনটি বলা যাবে না। চিকিৎসাটি এখনো গবেষণাধীন এবং এর কার্যকারিতা নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন