প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বাংলাদেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের পরিমাণ রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে। তবে ইউরোপ ও আমেরিকার অর্থনৈতিক মন্দার কারণে দেশের মোট রফতানি আয় কিছুটা কমে ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে নেমে এসেছে। এর মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক (ট্যারিফ) জটিলতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে প্রত্যাশিত অর্ডার না আসায় শুধু তৈরি পোশাক খাতেই প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রফতানি কমেছে। তবে জুন মাসে তৈরি পোশাক থেকে ৩ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার এবং সব মিলিয়ে ৪ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার রফতানি আয় হয়েছে। এটি মাসিক আয়ের ক্ষেত্রে আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট রফতানি আয় ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার কম। আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রফতানি আয় ছিল ৪৮ দশমিক ২৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
ফেব্রুয়ারি মাসে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে চলমান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে যে মন্দা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন স্টোর বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাকের অর্ডার কমিয়ে দেয়ায় সংকট আরও বেড়েছে। ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরামের চেয়ারম্যান এস এস আবু তৈয়ব বলেন, "বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার কারণে বাংলাদেশের সামগ্রিক রফতানি কমেছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের রফতানি আয়ও কমে গেছে।"
রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে আয় হয়েছে ১ দশমিক ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং পাট ও পাটজাত পণ্যে ৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধিতে আয় হয়েছে ৮৮৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এছাড়া হোম টেক্সটাইল, ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য এবং কৃষিজাত পণ্যের রফতানিও বেড়েছে।
তবে তৈরি পোশাক খাতকে ঘিরে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই খাত থেকে ৩৯ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রফতানি আয় হলেও, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ কমে ৩৮ দশমিক ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে নেমে এসেছে।
বিজিএমইএর ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. রফিক চৌধুরী বলেন, "এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে কাজ চলছে। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে কীভাবে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা যায়, সে বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।"
২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরুটা অবশ্য ভালোই ছিল। ২৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে তৈরি পোশাক খাত থেকে ৩ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রফতানি আয় হয়েছিল। কিন্তু আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প প্রশাসন ট্যারিফ বাড়ানোর পর গার্মেন্টস খাত চাপে পড়ে। অতিরিক্ত ব্যয় এড়াতে বিদেশি ক্রেতারা অর্ডার কমিয়ে দেয়ায় রফতানি আয়ও কমতে শুরু করে।
তবে জুন মাসে আবার আশার আলো দেখা গেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রফতানি আয় ছিল ৩ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এবারের আয় বেড়ে ৪ দশমিক ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। বিজিএমইএর পরিচালক এমডি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, "মানুষের আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য না থাকায় বিশ্বজুড়ে বিক্রি কমেছে। শুধু ইউরোপ বা আমেরিকা নয়, প্রায় সব বাজারেই একই ধরনের সংকট চলছে।"
এদিকে রফতানি আয় কিছুটা কমলেও আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের পরিমাণ বেড়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৭ দশমিক ১৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধিতে ৩৫ লাখ ৩১ হাজার কন্টেইনার, ৫ দশমিক ৬২ শতাংশ প্রবৃদ্ধিতে ১৩ কোটি মেট্রিক টন কার্গো এবং ৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধিতে ৪ হাজার ৩৩৬টি জাহাজ হ্যান্ডলিং করা হয়েছে।
তবে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, বন্দর ও কাস্টমসে অতিরিক্ত শুল্ক ব্যবসায়ীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিজিএমইএর পরিচালক রাকিবুল আলম চৌধুরী বলেন, "যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ব্যয় বেড়েছে। পাশাপাশি ভ্যাট, ট্যাক্স এবং বন্দরের খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব ব্যয় উৎপাদন খরচে যুক্ত হওয়ায় বাংলাদেশের প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে সমানভাবে প্রতিযোগিতা করে অর্ডার পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।"
নানা চ্যালেঞ্জ ও জটিলতার মধ্যেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রফতানি ৪ দশমিক ০৯ শতাংশ বেড়ে ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। একক দেশ হিসেবে এটিই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রফতানি আয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন