প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে স্থবির হয়ে থাকা খুলনার খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণে চীন আবারও আগ্রহ দেখিয়েছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে চীনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইম্পোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশনের (সিএমসি) একটি প্রতিনিধি দল বিমানবন্দরের নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন করেন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
এর পর বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যানকে একটি চিঠির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের আগ্রহের কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। চিঠিতে চারটি পৃথক পদ্ধতি উল্লেখ করা হয়েছে এবং আলোচনার মাধ্যমে যে কোনো একটি পদ্ধতি গ্রহণ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এই বিষয়টিকে ইতিবাচক বলা হচ্ছে এই অঞ্চলের জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীদের কাছে। তাদের মতে, বিমানবন্দর চালু হলে মোংলা বন্দর, সুন্দরবন এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মৎস্য শিল্প ও পর্যটন খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।
প্রায় ৩০ বছর আগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া খুলনা-মোংলা জাতীয় মহাসড়কের পাশে বাগেরহাট, খুলনা ও মোংলার সমদূরত্বে খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। সে সময় প্রকল্পের জন্য ৭৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে বিভিন্ন জটিলতায় প্রকল্পের কাজ দীর্ঘকাল ধরে স্থবির হয়ে পড়ে। পরে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য আরও ৫০০ একরের বেশি জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। সীমানা প্রাচীর নির্মাণ এবং আংশিক ভূমি ভরাটের কাজও সম্পন্ন হয়েছে।
যদিও তৎকালীন সরকার সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিলেও কোনো বিদেশি কোম্পানি বা দেশ এতে বিনিয়োগে আগ্রহ না দেখানোর কারণে নির্মাণ কাজ আর এগোয়নি।
খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল আলম মনা জানান, গত মাসে খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণে আগ্রহ প্রকাশ করে চীনের কোম্পানি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। আমরা এলাকাটি পরিদর্শন করেছি এবং আনুষ্ঠানিক চিঠি দেয়ার জন্য বলেছি। গত ৩০ জুলাই তারা বেবিচক চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়েছে। এখন বেবিচক পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত হবে।
চীনা কোম্পানির চিঠিতে বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে এবং সরকার টু সরকার (জিটুজি) ভিত্তিক সহজ ঋণ, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে (পিপিপি) তৈরির, পরিচালনার এবং চুক্তি শেষে হস্তান্তর (বিওটি) সহ নকশা তৈরি, মালপত্র কেনা, নির্মাণ ও অর্থায়ন পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ আছে, পারস্পরিক আলোচনা মাধ্যমে প্রPreferred পদ্ধতিটি নির্ধারণ করা যাবে।
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রকল্পটি বাস্তবায়নে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মিত হলে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আসবে। বিশেষভাবে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, ব্লু ইকোনমি, ইপিজেড, অর্থনৈতিক অঞ্চল, সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন, পণ্য পরিবহন এবং দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও জানান, বিমানবন্দর নির্মাণে চীন সরকার ইতিমধ্যে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং সেই সূত্রে চীনা প্রতিনিধি দল প্রকল্প এলাকার সার্বিক অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছে।
খুলনা চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি আসাদুর রহমান বলেন, বিমানবন্দরের অভাবে বিদেশি ক্রেতা ও আমদানিকারকরা খুলনায় আসতে চান না। খুলনায় একটি আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম রয়েছে, কিন্তু বিমানবন্দর অনুপস্থিত থাকার কারণে বড় আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলো এখানে অনুষ্ঠিত হয়নি। মোংলা ইপিজেড, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং সুন্দরবনের মতো পর্যটন কেন্দ্রের কারণে খুলনার কাছে একটি বিমানবন্দর অত্যন্ত প্রয়োজন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন