প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার একটি হোটেলে আগুন লাগার ফলে ৯ জনের মৃত্যুর পর পর্যটকদের মধ্যে অসীম আতংক তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশিরা এখন তড়িঘড়ি করে কলকাতা ছাড়ছেন। প্রশাসনের অভিযানের ফলস্বরূপ ১১টির অধিক হোটেল বন্ধ করে দেওয়ায় পর্যটক ও রোগীরা চরম বিপদের মধ্যে পড়েছেন।
এই কারণে কলকাতায় অবস্থানরত বাংলাদেশিদের কেউ কেউ দ্রুত দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, আবার কিছু পর্যটক নতুন হোটেলের সন্ধানে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইন হোটেলে বুধবার (১৯ আগস্ট) ভোরের আগুন লাগার ঘটনায় নয়জন প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন। এই ঘটনার পর কলকাতা প্রশাসন বিভিন্ন হোটেল ও অতিথিশালায় অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার পরীক্ষা শুরু করে। নিরাপত্তা বিধিতে ঘাটতি পাওয়া হোটেলগুলোকে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য নিউ মার্কেট, মার্কুইস স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট ও মির্জা গালিব স্ট্রিট দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত এলাকা হিসেবে পরিগণিত। চিকিৎসার জন্য কলকাতায় এসেছিলেন এমন রোগী ও তাদের স্বজনরাও সাধারণত এই এলাকায় তুলনামূলক কম খরচের হোটেলগুলোতে অবস্থান করেন। কিন্তু এখন সেই পরিচিত এলাকা আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পাবনার বাসিন্দা মোহাম্মদ খুরশিদ আলম কলকাতায় ব্যবসায়িক কাজে এসে এই অগ্নিকাণ্ডের পর তার হোটেল বদলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশে অবস্থান করা তার স্ত্রী ও বাবা-মা অগ্নির ঘটনায় দুশ্চিন্তিত হয়ে তাকে দ্রুত দেশে ফিরে আসতে বলেছিলেন।
হোটেলগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে নতুন সমস্যাও দেখা দিয়েছে। অনেক পর্যটককে হঠাৎ করেই ঘর ছাড়তে বলা হচ্ছে। তারপর বিকল্প হোটেলে গিয়ে কোথাও কোথাও আগের তুলনায় দেড় থেকে দ্বিগুণ ভাড়া চাওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। ফলে চিকিৎসা নিতে আসা বাংলাদেশি পরিবারগুলোও বাড়তি খরচের চাপে পড়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশি পর্যটকদের মধ্যে কেউ কেউ ইতিমধ্যে ফেরার টিকিট বুকিং দিয়েছেন।
ঢাকার বাসিন্দা ইসমাইল সরকার সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রশাসনিক অভিযানের কারণে তিনি আটকে পড়তে চান না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তিনি আবার কলকাতায় আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
কলকাতার এই অঞ্চলগুলোর ব্যবসা বাংলাদেশি পর্যটকদের উপর অনেকটাই নির্ভরশীল। হোটেল বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি পর্যটক সংখ্যা কমে গেলে খাবারের দোকান, পরিবহন, কেনাকাটা ও অন্যান্য ব্যবসায়েও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রশাসনের বক্তব্য, মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে অগ্নিনিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনকারী হোটেলগুলোর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে বাংলাদেশি পর্যটকদের প্রত্যাশা হলো, এক方面ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অন্যদিকে বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা যেন করা হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন