প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী একটি আইকন পরিবহনের শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি) বাসে চলন্ত অবস্থায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) দিনগত রাত ১২টার সময় কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের রামুর কলঘর বাজারের পশ্চিম পাশে এন আলম ফিলিং স্টেশনের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
এই ঘটনার জন্য বাসটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে কোনো হতাহত ঘটেনি বলে উল্লেখ করেছেন রামু তুলাতলি ক্রসিং হাইওয়ে থানার দায়িত্বরত কর্মকর্তা মো. ফজলুল হক।
যাত্রীদের অভিযোগ, বাসে আগুন এবং ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ার পর চালক অথবা সহকারী যাত্রীদের বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত না করে বাস থেকে পালিয়ে যান।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, আগুন লাগার সময় বাসটিতে প্রায় ২৫-৩০ জন যাত্রী ছিলেন। যখন আগুন ছড়িয়ে পড়ে, তখন তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। স্থানীয় লোকজন বাসের জানালার কাচ ভেঙে সব যাত্রীকে বের করে আনেন। স্থানীয়দের দ্রুত তৎপরতার ফলে অলৌকিকভাবে বাসের সকল যাত্রী প্রাণে বেঁচে যান এবং কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটে নি।
যাত্রী আবদুল আলীম জানান, তারা কক্সবাজার থেকে ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। বাসের ভিতরে প্রথমে পোড়া গন্ধ পান তারা। তারপর আগুন দেখতে পান। চালক বা সহকারী আগুন লাগার বিষয়টি যাত্রীদের জানাননি। পরে স্থানীয় লোকজন জানালার কাচ ভেঙে তাদের উদ্ধার করেন।
যাত্রীদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো- আগুন লাগার পরে বাসের ভিতর চালক ও সহকারী ছিলেন না। তারা নিজেদের বাঁচানোর জন্য যাত্রীদের সতর্ক না করে পালিয়ে যান।
রামুর তুলাতলি ক্রসিং হাইওয়ে থানার দায়িত্বরত এসআই মো. ফজলুল হক জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলের পাশে আগে থেকে আরেকটি দুর্ঘটনা তদারকিতে হাইওয়ে পুলিশের একটি টিম অবস্থান করছিল, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছাতে সক্ষম হন। স্থানীয়দের সহযোগিতায় যাত্রীদের নিরাপদে বাস থেকে নামিয়ে আনার পাশাপাশি তাদের মালামালও উদ্ধার করা হয়েছে। পরে একই কোম্পানির আরেকটি বাস এনে যাত্রীদের ঢাকায় যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
রামু ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মো. আবদুল কাদের চৌধুরী বলেন, অবস্থা পরিদর্শন করে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে যান্ত্রিক ত্রুটি এবং ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হওয়ার কারণে বাসটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।
রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একে ফজলুল হক বলেন, ভাগ্য সুপ্রসন্ন ছিল বলেই কোনো অঘটন ছাড়াই যাত্রীদের বাস থেকে বের করতে সক্ষম হয়েছি। যদি একটু দেরি হতো, তাহলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারতো।
প্রসঙ্গত, ১৭ আগস্ট কুমিল্লার ইলিয়টগঞ্জ এলাকায় কক্সবাজারগামী ‘রয়্যাল কক্স পরিবহনের’ একটি স্লিপার বাসেও গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছিল। সেখানেও সৌভাগ্যের কারণে সব যাত্রী বাস থেকে নেমে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন, ফলে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে সেই বাসটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন