প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
সিঙ্গাপুর সরকার নতুন একটি বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত সময় কাটানো বা ‘ডুমস্ক্রলিং’-এর প্রবণতা কমানোর লক্ষ্যে। কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিদিন অন্তত ১৫ মিনিট বই পড়ার বিনিময়ে অর্থ প্রদান করা হবে।
এই নতুন উদ্যোগের আওতায় বই পড়ার জন্য পয়েন্ট সংগ্রহ করতে হবে। সরকারি একটি ওয়েবসাইটে প্রতিদিনের পড়ার সময় নথিভুক্ত করার মাধ্যমে ভার্চুয়াল কয়েন অর্জন করা যাবে। যদি কেউ প্রতিদিন অন্তত ১৫ মিনিট বই পড়ে, তাহলে ২০ কয়েন পাওয়া যাবে। একজন ব্যক্তি দিনে একটি পড়ার সেশনই নথিভুক্ত করতে পারবেন। ১,০০০ কয়েন জমা হলে ১ সিঙ্গাপুর ডলার অর্জন করা যাবে, যা প্রায় ৮০ সেন্টের সমান। অর্থাৎ, যদি কেউ প্রতিদিন ১৫ মিনিট করে মোট ৫০টি পড়ার সেশন সম্পন্ন করে, তাহলে তিনি ১ সিঙ্গাপুর ডলার পাবেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল লাইব্রেরি বোর্ডের প্রধান মেলিসা টাম বলেন, “ছোট ও সহজলভ্য পদক্ষেপের মাধ্যমে টেকসই পড়ার অভ্যাস গড়ে ওঠে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা এমন এক যুগে বসবাস করছি, যেখানে তথ্যের বৈচিত্র্য, কনটেন্ট আর নানা ধরনের বিনোদনের কোনো অভাব নেই।” দ্য স্ট্রেইটস টাইমসে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন, “যেকোনো মুহূর্তেই আমরা শত শত খবরের শিরোনাম স্ক্রল করতে পারি, ভিডিও দেখতে পারি কিংবা প্রায় যেকোনো বিষয়ের সারসংক্ষেপ পেয়ে যেতে পারি।”
মেলিসা টাম আরও বলেন, “আমরা জানি, যেকোনো ছোট ছোট চর্চা যখন নিয়মিত করা হয়, তখনই তা স্থায়ী অভ্যাসে রূপ নেয়। তাই আমাদের লক্ষ্যটাও বেশ সহজ - দিনে অন্তত ১৫ মিনিট বই পড়া। বাসে যাতায়াতের সময়, রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে কিংবা দুপুরের খাবারের ফাঁকেই এটি করা সম্ভব।”
সিঙ্গাপুর সরকার তরুণদের ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষতিকর প্রভাব কমানোর জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। এর মধ্যে দৈনিক ব্যবহারের সময়সীমা নির্ধারণের বিষয়টিও রয়েছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় তরুণদের ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষতিকর প্রভাবের ক্ষেত্রে ডুমস্ক্রলিং ও আসক্তিকে উল্লেখযোগ্য কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
নাগরিকদের আচরণে পরিবর্তন আনতে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার নজির সিঙ্গাপুরে নতুন নয়। এর আগে হাঁটায় উৎসাহ দিতে সুপারমার্কারের ভাউচার এবং প্রতিদিন নির্দিষ্টসংখ্যক পদক্ষেপ পূরণ করলে পুরস্কার দেওয়ার কর্মসূচিও গ্রহণ করা হয়েছে।
তবে বই পড়ার অভ্যাস নিয়ে নতুন উদ্যোগ গ্রহণের সময় আন্তর্জাতিক মূল্যায়নে সিঙ্গাপুরের শিক্ষার্থীদের সাফল্যও সামনে এসেছে। ২০২৫ সালের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী মূল্যায়ন কর্মসূচি (পিআইএসএ) অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ‘পিসা’ (PISA) বিশ্ব মূল্যায়নে দেখা গেছে, ১৫ বছর বয়সীদের বই পড়ার দক্ষতায় বিশ্বের শীর্ষস্থানে রয়েছে সিঙ্গাপুর। এই তালিকায় তারা চীন ও তাইওয়ানকে পেছনে ফেলেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন