প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
গাইবান্ধা সদর উপজেলার বাদিয়াখালি পিয়ারাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোস্তম আলী মণ্ডলকে নিয়ে এলাকাটি অস্বাভাবিক উত্তাল হয়ে উঠেছে।
এলাকাবাসী এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করছেন, তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং সাবেক স্ত্রীকে প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে সাবেক স্ত্রী শাহানা বেগম টাকা ও সন্তান হত্যার বিচার দাবিতে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হলে এলাকাবাসীর ক্ষোভের মাত্রা বেড়ে যায়। উৎপন্ন উত্তেজনা ক্রমশ বাড়তে থাকে এবং জনতা এক সময় অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে তার নিজের অফিস কক্ষে অবরুদ্ধ করে এবং তার কাছ থেকে পদত্যাগপত্র লিখে নেয়।
পরে সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনাস্থলে এসে প্রধান শিক্ষক রোস্তম আলী মণ্ডল ও সাবেক স্ত্রী শাহানা বেগমকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান।
ভুক্তভোগী ও অনুসন্ধান সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার জয়নাল আবেদিনের মেয়ের সাথে প্রধান শিক্ষক ২০১৯ সালে গোপনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর ঐ শিক্ষক গাইবান্ধা শহরের বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। এ সময় সাবেক স্ত্রীর পূর্বের স্বামীর জমি বিক্রির ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা ওই শিক্ষক হাতিয়ে নেন।
শাহানা বেগম অভিযোগ করেছেন, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে তার অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় অমানুষিক নির্যাতনসহ সন্তান যেন জন্মাতে না পারে, তার ওপর চাপ দেওয়া হয়। ১৮ জানুয়ারি জন্ম নেওয়া সন্তানটি তিনি দাবি করেন, প্রধান শিক্ষক পরিকল্পয় অনুযায়ী হত্যা করেন। এরপর শিশুটিকে গাইবান্ধা পৌর গোরস্থানে দাফন করা হয়।
স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, ২০২১ সালে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করার পর থেকে রোস্তম আলী মণ্ডল বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও নারীঘটিত কেলেঙ্কারির অভিযোগ রয়েছে। এটি সকলের অজ্ঞাত নয় যে, বারবার অভিযোগ উঠলেও 'অদৃশ্য শক্তির' কারণে তিনি আটকে যাননি।
সাবেক স্ত্রীর অভিযোগ স্কুলে উপস্থাপন করাতে এলাকার মানুষ একত্রিত হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা সকলেই প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। এর পর উত্তেজিত জনতা প্রধান শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে এবং অফিসিয়াল প্যাডে পদত্যাগপত্র লিখে নেন।
এই পরিস্থিতিতে সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাহাঙ্গীর আলম বাবু ও সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পুলিশসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করে প্রধান শিক্ষক এবং সাবেক স্ত্রীকে উদ্ধার করে থানার হেফাজতে নিয়ে যান।
এক প্রশ্নের উত্তরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাহাঙ্গীর আলম বাবু জানালেন, "আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছি। অভিযোগ গুরুতর। পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে এই কলঙ্কিত শিক্ষককে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া উচিত। এ ছাড়া, না হলে তারা আরও বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেবে। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন