প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে তাবিজের কথা বলে নিজ বসতঘরে নিয়ে এক সন্তানের জননীকে ধর্ষণের জন্য চেষ্টা করার অভিযোগে পুলিশ গ্রেফতার করেছে মো. মোস্তাফিজুর রহমান মাহাবুব নামে একজন জামায়াত নেতাকে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাবন্দি করা হয়েছে।
শনিবার সকালে এই ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করেছেন মির্জাগঞ্জ থানার ওসি মো. তৌহিদুজ্জামান। এর আগে শুক্রবার সকালে মাধবখালি ইউনিয়নের উত্তর চৈতা গ্রাম থেকে অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান মাহাবুবকে পুলিশ আটক করেছে।
জামায়াত নেতা মো. মোস্তাফিজুর রহমান মাহাবুব, যিনি ৪৫ বছর বয়সী, উত্তর চৈতা গ্রামের মৃত জয়নাল মৌলভীর ছেলে। তিনি মির্জাগঞ্জ উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের জামায়াত ইসলামীয়ের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। বাড়ির পাশে একটি ফার্মেসির দোকানেও তিনি পল্লী চিকিৎসক হিসেবে কাজ করে আসছিলেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মাধবখালী ইউনিয়নের কাঠালতলী বাজারের উত্তর পাশে জামায়াত নেতা মোস্তাফিজুর রহমান মাহাবুবের মালিকানায় একটি ফার্মেসি অবস্থিত। এখানে কিছু চিকিৎসক হিসেবে রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দেন এবং স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন ধরনের তাবিজ দিয়ে ফকিরের কাজও করেন। ওই নারী ফার্মেসি থেকে প্রায়ই ওষুধ কিনতেন, এ কারণে তিনি মোস্তাফিজুরের কাছে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর দিয়েছিলেন। এরপর চিকিৎসার বিষয়ে মোবাইল ফোনে কথা বলেন এবং পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়ে তার কাছ থেকে পরামর্শ নিতেন।
ঘটনার আগে ওই নারী তার ভাইয়ের ১১ বছর বয়সী মেয়ের পড়াশোনার জন্য মোস্তাফিজুরকে বলেন। এর ধারাবাহিকতায় ওই নারী বৃহস্পতিবার তদবির নিয়ে তার ফার্মেসিতে যান। ফার্মেসিতে মোস্তাফিজুরকে না পেয়ে ফোন করলে তিনি জানান যে, বাড়িতে আছেন। পরে তিনি ওই নারীকে বাড়িতে আসতে বলেন তদবির আনার জন্য। ওই নারী বাড়িতে গেলে মোস্তাফিজুর রহমান বিভিন্ন কাজে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। তার স্ত্রী-সন্তানসহ অন্য কাউকে না দেখতে পেয়ে ওই নারী বাইরে বের হতে চাইলে তিনি টানা-হেঁচড়া করে তার পরিহিত হিজাব ও বোরখা খুলে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালান। তার চিৎকারে বাড়ির লোকজন এগিয়ে এলে বিষয়টি প্রকাশ পায়।
প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা শাহরুখ মিরাজ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, মোস্তাফিজুর রহমান মাহাবুবের বাড়িতে অনেকগুলো ঘর রয়েছে। সন্ধ্যার পরে স্ত্রী-সন্তান না থাকার ফলে এক নারীকে নিয়ে আসায় বাড়ির লোকজনের সন্দেহ ঘটে। আমরা গিয়ে দেখি তাদেরকে ঘরের মধ্যে আপত্তিকর অবস্থায়। এরপর ওই নারী বলেন, ‘উনি আমাকে তাবিজ দেওয়ার কথা বলে এখানে এনেছেন। এরপর জোরপূর্বক আমাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছে।’
মির্জাগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ঘটনার বিষয়ে আমরা জেনেছি এবং দলীয়ভাবে তদন্ত চলছে। আনীত অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ওসি মো. তৌহিদুজ্জামান জানিয়েছেন, এ বিষয়ে এক সন্তানের জননী ওই নারী থানায় একটি ধর্ষণচেষ্টার মামলা দায়ের করেছেন। মোস্তাফিজুর রহমান মাহাবুবকে গ্রেফতার করার পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন