প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ঢাকা, ২৪ জুলাই, ২০২৬ : তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বাংলাদেশের সকল ধর্মাবলম্বী নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করেন। দেশের সংবিধানে ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্য বা বিভেদের জন্য কোনো সুযোগ নেই।
মন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, ‘এই দেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা মুসলিম, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধদের মতোই সমান অধিকার ভোগ করেন। আমাদের সংবিধান মানুষকে ধর্মের ভিত্তিতে বিভক্ত করে না। যারা ধর্ম বা রাজনীতির নামে বিভেদ সৃষ্টি করতে চান, তারা দেশের, ধর্মের ও সৃষ্টিকর্তার শত্রু।’
আজ শুক্রবার রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে অনুষ্ঠিত শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের উল্টো রথযাত্রা উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী আরও জানান, সনাতন ধর্ম হাজার বছরের ঐতিহ্য ও ইতিহাসের ধারক। ইতিহাস তার দীর্ঘ এবং অবিচ্ছিন্ন অস্তিত্বের সাক্ষ্য বহন করে।
তিনি বলেন, ‘মানবসভ্যতার শুরু থেকেই সমস্ত ধর্মের আধ্যাত্মিক নেতারা সৃষ্টিকর্তার সান্নিধ্য লাভের জন্য চেষ্টা করে আসছেন। প্রকৃত ধর্মবিশ্বাসীরা অন্যান্য ধর্মের অনুসারীদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকেন, কেননা যদিও তারা ভিন্ন ভিন্ন আচার বা পথ অনুসরণ করেন, তবুও সবার সূত্র একই পরম সত্তার সন্ধানে।’
জহির উদ্দিন স্বপন দেশি-বিদেশি সেইসব অপশক্তির বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন, যারা সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থে অথবা সমাজে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহার করতে চান।
মন্ত্রী বলেন, নিজ নিজ ধর্মে অবিচল থেকে সব ধর্মের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রদর্শনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব। এটিই একটি অসাম্প্রদায়িক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজের প্রকৃত চেতনা।
মন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শন অনুসারে ধর্ম, বর্ণ, ভাষা বা ভৌগোলিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো ধরনের বিভাজন মেনে নেওয়া হবে না।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আবদুস সালাম।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সকল সম্প্রদায়ের মানুষের সমান দেশ। যারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে চান, তারা প্রকৃত অর্থে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করেন না।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে হিন্দু ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরাও আমাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছেন। সকলের সম্মিলিত আত্মত্যাগের বিনিময়ে এই দেশ অর্জিত হয়েছে। এখানে কাউকে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করার কোনো সুযোগ নেই; সকল নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধরও বক্তব্য দেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন