প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারীর পদে কর্মরত মো. জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি চাকরির আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন করেছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) হাসিব নামে এক ব্যক্তি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন, যেখানে দাবি করা হয়েছে যে, তার নামে ও বেনামে থাকা এসব সম্পদের পরিমাণ কোটি টাকার বেশি। অভিযোগটি ভোলা সিভিল সার্জন বরাবরও পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মো. জাহাঙ্গীর আলম দীর্ঘদিন ধরে সরকারি চাকরি করলেও তার এবং পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, চাকরিজীবনে সরকারি কোষাগার থেকে প্রাপ্ত বেতন ও ভাতার সঙ্গে এসব সম্পদের কোনো সামঞ্জস্য নেই।
এছাড়া অভিযোগে আরও বলা হয়, ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন শুভাঢ্যা পশ্চিম পাড়ায় জাহাঙ্গীর আলমের দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে, যার আয়তন প্রায় ১ হাজার ৪০০ বর্গফুট। শুভাঢ্যা বেগুন বাড়ির দিকে তার আরও একটি ফ্ল্যাট রয়েছে, যার আয়তন প্রায় ১ হাজার ৫০০ বর্গফুট।
চরফ্যাশন পৌরসভার শরীফ পাড়ায় তার একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি রয়েছে, যার মূল্য আনুমানিক ৪৫ লাখ টাকা বলে অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, তার নামে আরও অনেক জমি রয়েছে, যা তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে।
দুদকে দেওয়া অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভোলার জেলা ডাকঘরে জাহাঙ্গীর আলম ও তার স্ত্রীর নামে প্রায় ২৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র রয়েছে। অভিযোগকারী উল্লেখ করেছেন যে, সঞ্চয়পত্রের সুদ যুক্ত হলে এ অর্থের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
অভিযোগপত্রে জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রীর প্রায় ১০০ ভরি স্বর্ণালংকার থাকার কথাও বলা হয়েছে, যা অবৈধ ঘুষের টাকা দিয়ে অর্জিত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন হাসিব।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেছেন যে, চাকরির বেতন ও ভাতার সঙ্গে উল্লিখিত সম্পদের কোনো সামঞ্জস্য নেই। তাই জাহাঙ্গীর আলমের সম্পদের উৎস, আয়-ব্যয়ের হিসাব ও সম্পদ অর্জনের বৈধতা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, "আমার ক্রয় করা কোনো সম্পত্তি নাই। সব পৈতৃক সূত্রে মালিক।"
ভোলার সিভিল সার্জন মনিরুল ইসলাম মন্তব্য করেছেন, "এ বিষয়ে আমি দেখব তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে কিনা।"
দুর্নীতি দমন কমিশন বরিশালের উপসহকারী পরিচালক সুশান্ত রায় বলেছেন, "কমিশনের অনুমতি ছাড়া তদন্ত করা সম্ভব নয়। কমিশনের অনুমতি পেলে তদন্ত শুরু করব।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন