প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুরের এক টিকটকারসহ দুই যুবকের চুল কেটে দিয়েছে হবিগঞ্জ জেলা নবীগঞ্জ উপজেলার কিছু লোক।
তরুণীকে নিয়ে টিকটিকে অশালীন ভিডিও প্রকাশ করার অভিযোগে এবং রাতে দেখা করতে যাওয়ায় এই ঘটনা ঘটে। সোমবার (১৩ জুলাই) রাত ১০টার সময় ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের লালাপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনার ভিডিও ফেসবুকে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, কাঁচি দিয়ে তাদের চুল কাটা হচ্ছে। চুল কাটার শিকার দুই যুবক হলেন- জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নের সালদিঘা গ্রামের টিকটকার হিসেবে পরিচিত লিটন মিয়া এবং একই গ্রামের আরেক যুবক লেবু মিয়া।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ইনাতগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও লালাপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. নোমান হোসেন বলেছেন, "গ্রামের এক তরুণীকে নিয়ে টিকটকে অশালীন ভিডিও প্রকাশের কারণে ও গত রাতে দেখা করতে আসায় গ্রামের কয়েকজন দুইজনকে আটক করে চুল কেটে দিয়েছে। তবে এভাবে চুল কাটা এবং ফেসবুকে ভিডিও প্রকাশ করা উচিত হয়নি।"
এই বিষয়ে কথা বলতে চাইলে লিটন মিয়া ও লেবু মিয়ার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে ফেসবুকে ভিডিও বার্তা দিয়ে টিকটকার লিটন মিয়া বলেছেন, "লালাপুর গ্রামের কয়েক যুবককে টিকটকে ভাইরাল না করায় দাওয়াত দিয়ে নিয়ে ষড়যন্ত্র করে তাদের সঙ্গে এমন কাজ করেছেন।" তিনি উল্লেখ করেন যে, "কোনো মেয়ের সঙ্গে তার খারাপ সম্পর্ক নেই। যদি কোনো মেয়ের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটত তাহলে মেয়েকে কেন সামনে আনা হল না।"
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সালদিঘা গ্রামের টিকটকার লিটন মিয়া বিভিন্ন সমালোচিত ভিডিও টিকটকে প্রচার করেন। গত কয়েক দিন আগে নবীগঞ্জের লালাপুর গ্রামের এক তরুণীর মুখের মাস্ক জোর করে খুলে ভিডিও তৈরি করে প্রচার করেন। পরে আপত্তির কারণে তিনি ভিডিওটি মুছে ফেলেন। তবে সোমবার বিকেলে আবারও ওই তরুণীকে নিয়ে ভিডিও তৈরি করার সময় লিটন মিয়া ও লেবু মিয়া তরুণীর বাড়িতে দেখা করতে যান। এ সময় গ্রামের কয়েক যুবক তাদের আটক করে। পরে আব্দুল হারিছের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে তাদের চুল কাটা হয়। চুল কাটা চলার সময় লেবু মিয়াকে বলতে শোনা যায়, "চাচা আমি এরকম কিছুত নাই, আমি এই বিষয়ে কিছু জানি না।"
চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম বলেন, "আমি ফেসবুক চালাই না, এমন কোনো অভিযোগ কেউ করেনি বা জানায়নি। তবে শুনেছি ফেসবুকে নাকি এমন একটা ভিডিও মানুষ দেখছে।"
জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম বলেন, "ডেকে নিয়ে জোর করে চুল কাটা বা অপদস্থ করার কোনো ঘটনা আমাদের নজরে পড়েনি। এমন ঘটনায় কেউ কোনো অভিযোগও করেনি। এছাড়া ঘটনাস্থল অন্য জেলায়।" নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হোসেন বলেন, "এমন কোনো ঘটনা আমাদের কেউ অবগত করেনি, কোনো অভিযোগ পাইনি। ঘটনাটির খোঁজ-খবর নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন