প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ঢাকায় অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্টে বাংলাদেশকে ৮ উইকেটে পরাজিত করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। স্পিনের মাধ্যমে ক্যারিবীয়দের পরাজিত করার পরিকল্পনা করা হলেও, টাইগাররা নিজেদেরই ফাঁদে পড়েছে। সিলেটে অনুষ্ঠিতব্য দ্বিতীয় টেস্টে দলের কাছ থেকে একই ধরনের লড়াকু মানসিকতা প্রত্যাশা করছেন ক্যারিবীয় প্রধান কোচ ড্যারেন স্যামি। তবে তিনি প্রথম টেস্টের তুলনায় আরও বেশি ক্ষুধা ও জয়ের তাড়না চান।
দুই টেস্টের মধ্যবর্তী সময়ে স্যামি মন্তব্য করেন, ‘আমি একই মানসিকতা চাই, তবে আরও একটু বেশি ক্ষুধা ও জয়ের তাড়না দেখতে চাই। আমরা এখানে আসার পর থেকেই অধিনায়ক রস্টন চেজ খেলোয়াড়দের সামনে দলের লক্ষ্য ও মিশন তুলে ধরেছে। বছরের শেষটা ভালোভাবে শেষ করাও আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’
বর্তমান বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তিনটি টেস্ট জিতেছে। এর মধ্যে শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের বিপক্ষে একটি করে এবং ঢাকায় বাংলাদেশের বিপক্ষে একটি জয় পেয়েছে তারা। তবে ক্যারিবীয়রা এখনো কোনো সিরিজ জিততে পারেনি। এবার বাংলাদেশের মাটিতে সিরিজ জয় তাদের লক্ষ্য।
বাংলাদেশের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স সফরকারীদের জন্য কাজটি সহজ করবেন না, স্যামি এ বিষয়ে সচেতন।
তিনি বলেন, ‘ফিলকে আমি ভালো করেই চিনি। সে কখনোই প্রতিপক্ষের জন্য কাজটা সহজ করে দেবে না। সেও জিততে চায়। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে তাদেরও নিজস্ব লক্ষ্য রয়েছে। তবে আমাদের খেলোয়াড়দের ক্ষুধা, দৃঢ়তা, পরিশ্রম করার মানসিকতা এবং খুঁটিনাটি বিষয়ে মনোযোগ দেখে আমি আত্মবিশ্বাসী। সিলেটে আমরা যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হই না কেন, এই টেস্ট চক্রের শেষটা বাংলাদেশে অ্যাওয়ে জয় দিয়ে করতে আমরা প্রস্তুত থাকব। আর নিজেদের মাটিতে বাংলাদেশকে হারানো মোটেও সহজ নয়।’
স্যামি আরও বলেন, ‘এই সিরিজ শুরুর আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একটি টেস্ট জিতে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় বাংলাদেশ চারে ছিল। তাই এখানে কী ঝুঁকিতে রয়েছে, সে বিষয়ে আমরা পুরোপুরি সচেতন। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রের শুরুতে বার্বাডোজে আমরা যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলাম, তা অর্জনে দলের সবাই মুখিয়ে আছে।’
বাংলাদেশ সিরিজের আগে চেন্নাইয়ে লাল বলের ক্রিকেটারদের অনুশীলন ক্যাম্পকে ঢাকার টেস্টে স্পিনের বিপক্ষে ব্যাটারদের ভালো করার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন স্যামি।
ক্যারিবীয় কোচ বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমাদের স্পিনাররা বাংলাদেশের স্পিনারদের চেয়ে ভালো বোলিং করেছে। একই সঙ্গে আমাদের ব্যাটাররা তাদের ব্যাটারদের তুলনায় স্পিন অনেক ভালোভাবে সামলেছে। আমার এবং ব্যাটিং কোচ ফ্লয়েড রেইফারের কাছে এটাই ছিল সবচেয়ে সন্তোষজনক বিষয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যেভাবে লড়াই করেছি, ম্যাচে টিকে থেকেছি, সেটিও ছিল দারুণ। তবে এর পেছনে প্রস্তুতি ক্যাম্পের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হবে। চেন্নাইয়ে অনুশীলন ও প্রস্তুতির সুযোগ করে দেওয়ায় ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ধন্যবাদ। সুপার কিংস একাডেমি এবং শ্রী রামচন্দ্র সেন্টার ফর স্পোর্টস সায়েন্সে আমরা অনুশীলন করেছি।’
‘ব্যাটিং কোচ ফ্লয়েড রেইফার এবং একাডেমির হাই-পারফরম্যান্স কোচ শ্রী রামকৃষ্ণমূর্তি ব্যাটারদের নিয়ে যে কাজ করেছেন, তা এই কন্ডিশনে স্পিনের বিপক্ষে তাদের পারফরম্যান্সে প্রতিফলিত হয়েছে। এখানে আসার পরও আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি। সেই প্রস্তুতির প্রতিফলন মাঠে দেখতে পাওয়াটা আমাদের জন্য আনন্দের,’–তিনি যোগ করেন।
টেস্ট দল হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের উন্নতি নিয়েও সন্তুষ্ট স্যামি। তার মতে, খেলোয়াড়রা এখন নিজেদের নির্ধারিত দায়িত্ব ও ভূমিকায় ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে।
তিনি বলেন, ‘টেস্ট দল হিসেবে আমরা যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছি, তাতে মনে হচ্ছে দলটি এখন স্থিতিশীল হচ্ছে। প্রত্যেক খেলোয়াড়কে যে নির্দিষ্ট দায়িত্ব ও ভূমিকা দেওয়া হয়েছে, তারা সেগুলোর সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছে।’
ঢাকার প্রথম টেস্টে ব্যাটিং ও বোলিং দুই বিভাগেই দলের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ স্যামি। তিনি বলেন, ‘আমাদের স্পিনাররা তাদের স্পিনারদের চেয়ে ভালো বোলিং করেছে। আমাদের ব্যাটাররাও স্পিনের বিপক্ষে ভালো সাড়া দিয়েছে। ফ্লয়েডের সঙ্গে আমার জন্য এটিই ছিল সবচেয়ে আনন্দের বিষয়। সে বলেছিল, বাংলাদেশ যে রানই করুক না কেন, আমরা তা তাড়া করার চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত। মাঠে ছেলেদের সেই কাজ করতে দেখা দারুণ ছিল। চতুর্থ ইনিংসে ব্র্যান্ডন কিংয়ের অপরাজিত ৮১ রানের ইনিংসটি ছিল অসাধারণ।’
ঢাকা টেস্টে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৯ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন জোমেল ওয়ারিকান। অন্যদিকে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে পাঁচ উইকেট শিকার করেন অধিনায়ক রস্টন চেজ।
মজার বিষয় হলো, প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের স্পিনাররা ১০ উইকেটের মধ্যে ৮টি নিয়েছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে ২৮.১ ওভার বোলিং করেও কোনো উইকেট পাননি তারা।
অধিনায়ক হিসেবে রস্টন চেজের নেতৃত্বেরও প্রশংসা করেছেন স্যামি। বিশেষ করে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও ধৈর্য ধরে দায়িত্ব পালন এবং নিজের পরিকল্পনায় অবিচল থাকার মানসিকতা মুগ্ধ করেছে তাকে।
স্যামি বলেন, ‘রস্টন চেজের নেতৃত্বের কথা আমাকে বলতেই হবে। টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে তার প্রথম সেঞ্চুরির সময়ও আমরা তার নেতৃত্বের বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছিলাম। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম বছর নানা কিছু ঘটলেও সে কখনো নিজের কণ্ঠস্বর হারায়নি, নেতৃত্বের জায়গা থেকে সরে যায়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কাজ চালিয়ে গেছি। ফ্লয়েড রেইফারের সঙ্গে ব্যাটারদের ধারাবাহিক পরিশ্রমের ফল এখন দেখা যাচ্ছে। খেলোয়াড়রাও আমাদের নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছে।’
‘রবি রামপালের সঙ্গে বোলিং বিভাগে কাজ, তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে পরিকল্পনা তৈরি এবং সেই পরিকল্পনা মাঠে বাস্তবায়নের দায়িত্ব খেলোয়াড়দের ওপর ছেড়ে দেওয়া—সবকিছুতেই উন্নতি দেখা যাচ্ছে। খেলোয়াড়রা যেভাবে পরিপক্বতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিচ্ছে, সেটাই অগ্রগতি। আমার কাছে অগ্রগতিই সাফল্য। আমরা এভাবেই কাজ চালিয়ে যাব,’–স্যামি শেষ টানেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন