প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ঢাকা, ২৩ জুলাই, ২০২৬ : চাদের পূর্বাঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকায় পানির তীব্র সংকটের ফলস্বরূপ কূপের পানি ব্যবহারকে কেন্দ্র করে প্রাণঘাতী সংঘাত বাড়ছে। খরা ও দারিদ্র্যের শিকার মরু অঞ্চলের এই সংকট জনজীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে।
দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর আবেচেতে প্রায়ই কলে পানি পাওয়া যায় না। দ্রুত নগরায়ন এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে এ সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের মতে, শহরটির জনসংখ্যা ৫ লক্ষাধিকেরও বেশি। শহরের কিছু এলাকা পানি সরবরাহ ব্যবস্থা রয়েছে, কিন্তু তা নিয়মিত নয়।
প্রখর রোদে প্রায়ই নারীদের জেরিক্যানে করে কূপ থেকে পানি নিয়ে আসা দেখি, তারা লালচে মাটির পথে রঙিন ওড়না পরে বাড়ি ফেরেন।
আবেচে থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। ব্যবসায়ী ইসা মাহামাত বলেন, "দিনের নির্দিষ্ট সময়ে কলে একেবারেই পানি আসে না। গভীর রাতে আবার পানি প্রবাহ শুরু হয়।" আবেচের অন্যান্য অনেক এলাকায় পাওয়ার পরিস্থিতি আরও খারাপ।
বাসিন্দা কাদিদজা এএফপিকে বলেন, "আমরা এখনো অর্থের বিনিময়ে পানি কিনি। কলের পানির সঙ্গে এখনো পরিচিত হতে পারিনি।"
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে চাদের ১০ শতাংশেরও কম পরিবার নিরাপদ ও সার্বক্ষণিক প্রবাহমান পানির সুবিধা পাবে।
-অবকাঠামোর ঘাটতি-
আধা-মরু অঞ্চল নিয়ে গঠিত চাদ জলবায়ু পরিবর্তনের বড় ধরণের ঝুঁকির মুখে রয়েছে। ২০০৩ সালে দেশটি তেল উৎপাদন শুরু করলেও এখনো চরম দারিদ্র্যের মধ্যে রয়েছে। দেশটির ৭০ শতাংশের বেশী মানুষ গ্রামীণ এলাকায় বসবাস করে।
ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার সঙ্গে তাল মিলিয়ে অবকাঠামো গড়ে উঠতে না পারায় সরকার ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছে। ২০১৯ সালে আবেশে থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরের বিতিহা এলাকায় একটি প্রকল্প শুরু হয়েছে। সেখানে কয়েকটি গভীর নলকূপের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানি তুলে শহরের দুটি পানির টাওয়ারে সরবরাহ করা হচ্ছে।
প্রকল্প ব্যবস্থাপক বাখিত ডিকি বারকাই জানান, "মানুষের পানির চাহিদা খুবই তীব্র। বিতেহা-২ প্রকল্প উৎপাদন বাড়াবে এবং পরিবারের চাহিদা পূরণ করবে।" তিনি বলেন, "সংকট পুরোপুরি দূর না হলেও পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।"
বারকাই আরও জানান, আগে তাপপ্রবাহের সময় পানির সংকট স্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেত। তবে গত তিন বছরের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তিনি বলেন, "বছরের শেষ নাগাদ আমরা প্রতিদিন ২৫ হাজার ঘনমিটার পানি উৎপাদনের লক্ষ্যে পৌঁছাব। তখন আবেচেতে আর পানির সংকটের কথা থাকবে না।"
চিতেয়ে এলাকার বাসিন্দা আহমেদ ইউসুফ বলেন, "সৌভাগ্যক্রমে আমাদের এলাকায় নতুন পানির টাওয়ার স্থাপন হওয়ায় এখন আমরা স্বস্তিতে আছি। পর্যাপ্ত পানি পাচ্ছি।"
তবে নতুন অবকাঠামো এখনো সবার চাহিদা পূরণে যথেষ্ট নয়।
-দারিদ্র্য ও সংঘাত-
শহর ও গ্রামের মধ্যে পানির প্রাপ্যতার বৈষম্য এখনো বড় সমস্যা হিসেবে রয়ে যাচ্ছে। পানির ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধ অনেক সময় প্রাণঘাতী সংঘাতে পরিণত হচ্ছে।
চাদের প্রেসিডেন্ট মাহামাত ইদ্রিস দেবি ইতনো সম্প্রতি পানি বিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক ফোরামে এ সংকটের গুরুত্ব তুলে ধরেন। ১৫ জুলাই রাজধানী এন'জামেনায় অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, "যখন পানির স্তর নেমে যায় বা পানির ঘাটতি দেখা দেয়, তখন দারিদ্র্য দ্রুত বাড়ে। মানুষ ও গবাদিপশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সংঘাতও বেড়ে যায়।"
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর ও মধ্য আফ্রিকার সংযোগস্থলে অবস্থিত ১ কোটি ৯০ লাখ মানুষের দেশ চাদ আফ্রিকায় জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা সবচেয়ে অরক্ষিত দেশগুলোর একটি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন