প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
রাতে পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া এবং সকালে উঠে মাথা ভার বা ব্যথার অনুভূতি অনেকের জন্য পরিচিত একটি সমস্যা। গবেষকরা জানিয়েছেন, ঘুমের অভাবের সঙ্গে মাথাব্যথার একটি সম্পর্ক বিদ্যমান। শরীরে ঘুমের অভাব হলে ব্যথা সহ্য করার ক্ষমতা কমে যেতে পারে, যার ফলে মাইগ্রেন এবং চিন্তায় মাথাব্যথার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রতিদিন ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম শরীরকে বিশ্রাম দেয়ার পাশাপাশি মাথাব্যথার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
ঘুম কমলে কেন মাথাব্যথা হয়?
ঘুমের অভাব শরীরের ব্যথা অনুভব করার সীমাকে কমিয়ে দিতে পারে। এর ফলে সামান্য অস্বস্তিও অধিক ব্যথার অনুভূতি সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে, মাইগ্রেন এবং চিন্তায় মাথাব্যথার ক্ষেত্রে ঘুমের অভাবের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
মাইগ্রেনের ব্যথা সাধারণত মাথার এক পাশে বেশি অনুভূত হয় এবং এটি কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এর সঙ্গে আলো এবং শব্দের প্রতি অস্বস্তি, বমি বমি ভাব অথবা বমি হতে পারে।
অন্যদিকে, চিন্তায় মাথাব্যথায় মাথার ওপরের অংশ, দুই পাশ বা পেছনে হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার ব্যথা অনুভূত হতে পারে। সাধারণত, আলো বা শব্দে এ ধরনের ব্যথা খুব বেশি বৃদ্ধি পায় না।
কত ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন?
বয়স অনুযায়ী ঘুমের প্রয়োজন ভিন্ন। নবজাতক থেকে শুরু করে বয়স্ক মানুষ পর্যন্ত সবার ঘুমের চাহিদা একরকম নয়।
সাধারণত প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে ৭ ঘণ্টার কম ঘুমকে কম ঘুম হিসেবে ধরা হয়।
মাথাব্যথা হলে কী করবেন?
ঘুমের অভাবে টানধরনের মাথাব্যথা বা মাইগ্রেন হলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করলে ব্যথার তীব্রতা এবং স্থায়িত্ব কমানো সম্ভব।
চিন্তায় মাথাব্যথার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কিছু ব্যথানাশক ওষুধ ব্যবহার করা হয়। মাইগ্রেনের ক্ষেত্রে সাধারণ ব্যথানাশকের পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শে বিশেষ ধরনের ওষুধ প্রয়োজন হতে পারে।
তবে মাথাব্যথা যদি বারবার হয় বা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে, তাহলে নিজের মতো করে নিয়মিত ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ঘরেই ব্যথা কমানোর কিছু উপায়
চিন্তায় মাথাব্যথা কমানোর জন্য মানসিক চাপ হ্রাস, হালকা ব্যায়াম এবং শিথিল হওয়ার কিছু পদ্ধতি কার্যকর হতে পারে।
মাথায় ৫ থেকে ১০ মিনিটের জন্য ঠান্ডা বা গরম সেঁক দেওয়া যেতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে হালকা মালিশও আরাম দিতে পারে।
মাইগ্রেন হলে আলো এবং শব্দ কম এমন অন্ধকার এবং শান্ত ঘরে বিশ্রাম নেওয়া উপকারী হতে পারে। ঘাড়ের পেছনে ঠান্ডা সেঁক এবং কপালের ব্যথার জায়গায় হালকা মালিশও করা যেতে পারে।
মাথাব্যথা এড়াতে ঘুমের অভ্যাস ঠিক করুন।
ঘুমের নিয়ম ঠিক রাখা মাথাব্যথা প্রতিরোধের একটি সহজ উপায়। এর জন্য কিছু অভ্যাস মেনে চলা যেতে পারে—
প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমান এবং উঠুন: নিয়মিত সময়ে ঘুমানো এবং জাগার অভ্যাস শরীরের স্বাভাবিক ঘুম-জাগরণ ছন্দ ঠিক রাখতে সাহায্য করে।
দিনে নিয়মিত শরীরচর্চা করুন: ব্যায়াম ভালো ঘুমে সহায়তা করতে পারে। তবে ঘুমানোর ঠিক আগে ব্যায়াম না করে অন্তত তিন ঘণ্টা আগে শেষ করা ভালো।
রাতে হালকা খাবার খান: রাতে বেশি ভারী খাবার খেলে বদহজম বা অস্বস্তির কারণে ঘুমে সমস্যা হতে পারে।
দিনে পর্যাপ্ত আলো পান: দিনের আলো শরীরের ঘুম এবং জাগরণের স্বাভাবিক ছন্দ ঠিক রাখতে সাহায্য করে।
ঘুমের আগে চা-কফি এড়িয়ে চলুন: ঘুমানোর ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা আগে ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়, ধূমপান এবং মদ্যপান এড়িয়ে চলা ভালো।
ঘর ঘুমের উপযোগী রাখুন: শোবার ঘর অন্ধকার, শান্ত এবং আরামদায়ক রাখুন। ঘর অতিরিক্ত গরমও যেন না হয়।
ঘুমের জায়গা থেকে কাজের জিনিস সরিয়ে রাখুন: টেলিভিশন, কম্পিউটার, কাজের কাগজপত্র বা মানসিক চাপ বাড়ায় এমন জিনিস শোবার ঘরে না রাখাই ভালো।
ঘুমের আগে নির্দিষ্ট অভ্যাস তৈরি করুন: বই পড়া, ধ্যান করা বা হালকা গরম পানিতে গোসলের মতো শান্ত কাজ ঘুমের প্রস্তুতিতে সাহায্য করতে পারে। শোবার কয়েক ঘণ্টা আগে মুঠোফোন, কম্পিউটারসহ বৈদ্যুতিক পর্দা এড়িয়ে চলা ভালো।
ঘুম না এলে জোর করবেন না: নির্দিষ্ট সময়ে বিছানায় গেলেই সঙ্গে সঙ্গে ঘুম আসবে, এমন নয়। ঘুম না এলে অতিরিক্ত চেষ্টা এবং দুশ্চিন্তা উল্টো মানসিক চাপ বাড়াতে পারে।
রাতে অতিরিক্ত পানি পান করবেন না: শোবার আগে বেশি পানি পান করলে রাতে বারবার ঘুম ভাঙতে পারে।
পর্যাপ্ত ঘুমই হতে পারে সহজ সমাধান
গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুমের ঘাটতি এবং মাইগ্রেন ও টানধরনের মাথাব্যথার মধ্যে একটি সুস্পষ্ট সম্পর্ক রয়েছে। পর্যাপ্ত ঘুম শরীরের ব্যথা সহ্য করার ক্ষমতা স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।
সুতরাং, নিয়মিত মাথাব্যথায় ভুগলে শুধুমাত্র ব্যথানাশক ওষুধের ওপর নির্ভর না করে ঘুমের সময় এবং ঘুমের অভ্যাসের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। মাথাব্যথা যদি ঘন ঘন হয়, তীব্র হয় অথবা স্বাভাবিক কাজকর্মে বাধা দেয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ছবির ক্যাপশন: ঘুমের ঘাটতি শরীরের ব্যথা সহ্য করার ক্ষমতা কমিয়ে মাথাব্যথার প্রবণতা বাড়াতে পারে।
সূত্র: হেলথলাইন
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন