প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
খুলনার পাইকগাছার সোলাদানা ইউনিয়নের আমুরকাটা থেকে বয়ারঝাপা অভিমুখে নির্মিত ইটের সলিং সড়কের একটি অংশ জোয়ার-ভাটার তীব্র স্রোতে ধসে পড়ছে। আমুরকাটা স্লুইস গেটসংলগ্ন খালের পাড়ে ভাঙন চলতে থাকায় সড়কটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এর ফলে ভ্যানসহ অন্যান্য হালকা যানবাহনের চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি সড়কের পাশে অবস্থিত আমুরকাটা আদর্শ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ভবনও ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা আশঙ্কা করছেন।
রোববার (১৯ জুলাই) সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, খালের পাশঘেঁষা সড়কের একটি দীর্ঘ অংশের ইটের সলিং ভেঙে পড়ে গেছে। কয়েকটি স্থানে সড়কের নিচের মাটি সরে গিয়ে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিটি জোয়ারের পর ভাঙনের পরিমাণ আরও বেড়ে যাচ্ছে। স্থানীয় লোকজন ঝুঁকি নিয়ে চলাফেরা করছেন।
স্থানীয়দের মন্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে খালের পাড়ে ভাঙনের এই সমস্যা চললেও স্থায়ীভাবে তা রোধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্ষা মৌসুমে জোয়ার-ভাটার স্রোত বেড়ে গেলে খালের পানি সড়কের নিচের মাটি ধুয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে ধীরে ধীরে সড়কের বিভিন্ন অংশ ধসে পড়ছে।
এই সড়ক দিয়ে আমুরকাটা, বয়ারঝাপাসহ আশপাশের অন্তত পাঁচ থেকে ছয়টি গ্রামের মানুষের চলাচল হয়। শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী এবং চাকরিজীবীদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। সড়কটির ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া কৃষিপণ্য পরিবহন, রোগী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া এবং শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতে ব্যাপক দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সমিরণ কুমার মণ্ডল বলেন, "কেবলমাত্র সড়ক সংস্কার করলেই হবে না। খালের পাশে শক্তিশালী পাইলিং বা তীর সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তা না হলে অল্প দিনের মধ্যে সড়কের অবশিষ্ট অংশও খালের গর্ভে চলে যাবে।"
আমুরকাটা আদর্শ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নরেন্দ্র নাথ রায় বলেন, "বিদ্যালয়ের দুই পাশের সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। স্লুইস গেটসংলগ্ন খালে অতিরিক্ত জোয়ার-ভাটার কারণে রাস্তা প্রায় বিলীন হয়ে গেছে। দ্রুত পাইলিং করা না হলে যেকোনো সময় বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষও ঝুঁকিতে পড়বে।"
সোলাদানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পীযুষ কান্তি মণ্ডল বলেন, "সড়কটির অবস্থা খুবই খারাপ। ভাঙন রোধ ও সংস্কারের জন্য দ্রুত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা প্রকৌশলীর কাছে আবেদন করা হবে।"
পাইকগাছা উপজেলা প্রকৌশলী শাফিন শোয়েব বলেন, "সাড়কটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আমার জানা ছিল না। ইউনিয়ন পরিষদ বা স্থানীয়দের পক্ষ থেকে আবেদন পেলে আমি বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।"
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সড়ক সংস্কারের পাশাপাশি খালের পাড়ে স্থায়ী তীর সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তা না হলে সড়কের পাশাপাশি বিদ্যালয় ভবনও ঝুঁকির মুখে পড়বে এবং কয়েকটি গ্রামের মানুষের যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন