প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এক অষ্টম শ্রেণির মাদরাসাছাত্রী (১৪) অপহরণের পর আটকে রেখে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ ওঠেছে। এ ঘটনায় কুমিল্লার দেবীদ্বার থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (৪ জুলাই) সকালে কুমিল্লার দেবীদ্বার পৌরসভার বারেরা এলাকায়। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে ওই স্কুলছাত্রী নিজেই বাদী হয়ে অভিযুক্ত মো. সবুজ মিয়া এবং তার মামাতো ভাই ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে এই মামলা করে। পুলিশ এখনও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
অভিযুক্ত মো. সবুজ মিয়া পৌরসভার বারেরা গ্রামের মো. রমিজ মিয়ার ছেলে এবং অপর আসামী ইসমাইল হোসেন হলো সবুজের মামাতো ভাই। পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ধর্ষণের শিকার ওই মেয়ে স্থানীয় একটি মাদরাসায় অষ্টম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে।
মাদরাসায় যাওয়া-আসার পথে তাকে নানা সময়ে উত্ত্যক্ত ও প্রেমের প্রস্তাব দিত সবুজ মিয়া। কিন্তু ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় সবুজ তাকে বিভিন্ন সময়ে ভয়ভীতি ও হুমকি দিতে থাকে। গত ১০-১২ দিন আগে সবুজ ভুক্তভোগী ছাত্রীর হাতে নিজের মোবাইল নম্বর দিয়ে বাড়ি গিয়ে ফোন করতে বলেন এবং ফোন না করলে মাদরাসায় যাওয়ার পথে ক্ষতি করার ভয় দেখান।
পরবর্তীতে ওই ছাত্রী বাধ্য হয়ে রাতে সবুজকে ফোন করলে সবুজ তাকে কোথাও ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেয়। তাতেও ওই ছাত্রী রাজি হয়নি। এরপর শুক্রবার (৩ জুলাই) রাত ৮টার দিকে সবুজ ওই ছাত্রীকে ফোন করে শনিবার সকালে দেবীদ্বার নিউ মার্কেট এলাকায় দেখা করতে বলেন এবং না করলে ক্ষতি করার ভয়ভীতি দেখায়।
পরদিন সকালে ওই ছাত্রী বাধ্য হয়ে সেখানে গেলে সবুজ তাকে একটি অটোরিকশায় তুলে নিজের বাড়ি বারেরা গ্রামে নিয়ে যায়। সেখানে তার ঘরের একটি কক্ষে আটকে রেখে ধর্ষণ করা হয়। কিছুক্ষণ পর ইসমাইল হোসেন সেই কক্ষে গিয়ে ওই ছাত্রীকে আবারও ধর্ষণ করেন। পরে দুই আসামী ওই ছাত্রীকে রাস্তায় ছেড়ে দিয়ে পালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী ওই মাদরাসাছাত্রীর বাবা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সবুজ মিয়া তার মেয়েকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছিল। সবুজ এবং তার মামাতো ভাই জোরপূর্বক মেয়েকে অপহরণ করে ধর্ষণ করে। ঘটনার পরপরই মেয়েকে ভয়ভীতি দেখানোয় সে ভয়ে কিছু জানাতে পারেনি। মঙ্গলবার সকালে মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়লে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর সে এই ঘটনার কথা খুলে বলে এবং নিজে বাদী হয়ে দেবীদ্বার থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করে।
দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বুধবার বিকেলে জানান, অষ্টম শ্রেণির এক মাদরাসা শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। তিন-চার দিন আগের ঘটনা হওয়ায় আসামিরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। তবে আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে। ওই ছাত্রীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন