প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরের হত্যার বিচার দাবি করে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ১১টায় জেলা প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই কর্মসূচির আয়োজন করেছে রুরাল জার্নালিস্ট ফাউন্ডেশন (আরজেএফ) জেলা শাখা।
মানববন্ধনের সভাপতিত্ব করেন আরজেএফ নেত্রকোনা জেলা শাখার সভাপতি সুজাদুল ইসলাম। সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক এরশাদুল হক। ঘণ্টাব্যাপী এই মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রেস ক্লাবের সাবেক সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান চৌধুরী, প্রবীণ সাংবাদিক ও দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিনিধি শ্যামলেন্দু পাল, এবং আরজেএফের চেয়ারম্যান এস এম জহিরুল ইসলাম প্রমুখ।
হায়দার জাহান চৌধুরী মন্তব্য করেন, অতীতে সাংবাদিক সাগর-রুনির মতো চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়ার নজির রয়েছে। তিনি জানান, এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে আমাদের অবিলম্বে বেরিয়ে আসতে হবে।
বক্তারা উল্লেখ করেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকেরা হত্যার শিকার হলে এবং বিচার না হলে, এমন পরিস্থিতি কোনোভাবেই চলতে পারে না। তারা দাবি করেন, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
আরো পড়ুন
বোয়ালখালীতে আ. লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৩ নেতা গ্রেপ্তার
অন্যদিকে, আজ সকালে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামানের গ্রামের বাড়ি কলমাকান্দা উপজেলার সুনই এলাকায়ও হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। দশধার-পোগলা সড়কের সুনই ফকিরবাড়ি মোড় এলাকায় আলিফের পরিবার ও এলাকাবাসীর ব্যানারে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধনে আলিফের বড় ভাই শহিদুল ইসলাম ফকির জানান, তার ভাই সীমান্তের বিভিন্ন অপরাধ নিয়ে লেখালেখি করতেন। তিনি মনে করেন, এই কারণেই দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে হত্যা করেছে।
তিনি বলেন, ‘আমি তো আর আমার ভাইকে কোনো দিন ফিরে পাব না। যারা তাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে, আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
এর আগে ১৫ অক্টোবর রাতে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের উত্রাইল বাজারসংলগ্ন তেলনজিয়া এলাকায় দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির। তিনি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি ছিলেন। পাশাপাশি তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামের একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন। ওই পেজে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধ ও অনিয়ম নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করতেন এই সংবাদকর্মী।
হত্যাকাণ্ডের পরদিন নিহত আলিফের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে দুর্গাপুর থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ৭-৮ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন