প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
মিয়ানমার বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে প্রত্যাবাসনে সম্মত হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এক অনুষ্ঠানে বক্তব্যর সময় এ তথ্য জানান। এর পাশাপাশি মালয়েশিয়া থেকেও ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার রাজি হয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফ্রি মালয়েশিয়া টুডের বরাতে তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলুর খবর অনুযায়ী, আনোয়ার ইব্রাহিম এই চুক্তিকে রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট দীর্ঘদিন পর সমাধানের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং এটি মালয়েশিয়ার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখার প্রয়াস বলে অভিহিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘মানুষ বলে ওদের ফেরত পাঠাও, ফেরত পাঠাও। কিন্তু পাঠাব কোথায়? মিয়ানমার তো ওদের নিতে চায়নি। এ কারণেই মিয়ানমারের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে হবে। এখন তারা প্রথমে ৫ হাজার জনকে নিতে সম্মত হয়েছে।’
আনোয়ার ইব্রাহিম আরও জানিয়েছেন, মিয়ানমার বর্তমানে বাংলাদেশে বসবাসকারী প্রায় ৩ লাখ রোহিঙ্গাকেও ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়েছে। তবে, তিনি এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনও সময়সীমা উল্লেখ করেননি।
সম্প্রতি পেনাং রাজ্যের একটি আবাসন ছেড়ে শতাধিক রোহিঙ্গা কুয়ালালামপুরের জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) কার্যালয়ের সামনে জড়ো হওয়ার কয়েক দিন পর প্রধানমন্ত্রী এই ঘোষণা দিলেন। পরবর্তীতে, মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষ রোহিঙ্গাদের ওই দলটিকে কুয়ালালামপুর, সেলানগোর এবং পেনাংয়ের বিভিন্ন অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তরিত করেছে।
আনোয়ার ইব্রাহিম জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশে শরণার্থী সংকটের একটি দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের লক্ষ্যে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখবে মালয়েশিয়া।
উল্লেখযোগ্য, মিয়ানমারের মুসলিম সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গা সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্য, নির্যাতন এবং নাগরিকত্বহীনতার শিকার। তারা চরম দুর্দশা থেকে বাঁচতে প্রায়শই বিপজ্জনক সমুদ্রপথে অন্যান্য দেশে পালানোর চেষ্টা করে। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সহিংস অভিযানের মুখে লাখ লাখ রোহিঙ্গা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিল। বর্তমানে বাংলাদেশে ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। আবার অনেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রপথে ইন্দোনেশিয়া এবং মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন