প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
খুলনার দাকোপে ঢাকী নদীর ভাঙনের ফলে ওয়াপদার বেড়িবাঁধের একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বাঁধে নতুন করে ধস ও ফাটল দেখা দেওয়ায় আশপাশের বসতবাড়ি, সড়ক এবং ফসলি জমির জন্য হুমকি সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) ভোর ৬টার দিকে ওয়াপদার বেড়িবাঁধের একটি অংশ ঢাকী নদীতে বিলীন হয়ে যায়। একই নদীর ভাঙনের কারণে পানখালী ইউনিয়নের খোনা এলাকায় বাঁধের বিভিন্ন অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। মোল্লাবাড়ির সামনে বাঁধের একটি অংশ ধসে পড়েছে, যেখানে সড়কেরও একটি বড় অংশ নদীতে চলে গেছে।
এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা প্রায় ৩০ বছর ধরে নদীভাঙনের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন। বারবার সংস্কার করেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় হাজারো পরিবার আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
দাকোপের ৩১ নম্বর পোল্ডারের আওতাধীন খোনা এলাকায় প্রায় ১০০ মিটার সড়কের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে ধসে পড়েছে। এ ছাড়া জাবেরের খেয়াঘাট, কামিনীবাসিয়া, গড়খালী, আন্ধারমানিক, সুতারখালীর গুণারীর কালীবাড়ি লঞ্চঘাট, কালাবগী বাজার, বানীশান্তা এবং তেলিরকোনা বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে বাঁধে ফাটল ও ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অমাবস্যা ও পূর্ণিমার জোয়ারের সময় বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে যায়। গত বছর বটবুনিয়ায় বাঁধ ভেঙে রোপা আমন ধান এবং পুকুরের মাছ ভেসে যায়। অপরিকল্পিত ও নিম্নমানের সংস্কারকাজের কারণে বারবার এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আসাদ বলেন, "প্রায় ৩০ বছর ধরে আমরা এ ভাঙন দেখে আসছি। প্রতি বছরই দু-একবার বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢোকে। ভাঙতে ভাঙতে আমাদের ও আশপাশের বহু মানুষের বাড়িঘর এবং প্রায় ৩০০ বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে।"
পানখালী ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রাশেদুল ইসলাম বাবু জানান, "গত ২ অক্টোবর খোনা মোল্লাবাড়ির সামনে বেড়িবাঁধে ফাটল ধরে। এরইমধ্যে সড়কের অর্ধেক অংশ নদীতে চলে গেছে।"
দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বোরহান উদ্দিন মিঠু বলেন, "পাউবোর সঙ্গে সমন্বয় করে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।"
খুলনা পাউবোর বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশিদুর রহমান জানান, "ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে। শিগগিরই সেখানে কাজ শুরু করা হবে।"
তবে স্থানীয়রা জরুরি সংস্কারের পাশাপাশি নদীভাঙন প্রতিরোধে টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টদের প্রতি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন