প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক যাত্রীদের জন্য ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ায় একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে পাসপোর্ট দেখিয়ে পরিচয় যাচাইয়ের পরিবর্তে এখন বায়োমেট্রিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করা হচ্ছে। এর ফলে যাত্রীরা নির্দিষ্ট ব্যবস্থায় পাসপোর্ট বা অন্য কোনো পরিচয়পত্র বের না করেই দ্রুত ইমিগ্রেশন পার হতে সক্ষম হবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ও সীমান্ত সুরক্ষা কর্তৃপক্ষের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ‘গ্লোবাল এন্ট্রি’ সুবিধাভোগীরা বিমানবন্দরে কোনো কার্ড বা পাসপোর্ট বের না করেই ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করার সুযোগ পাবেন।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ২৩৮টি বিমানবন্দরে বায়োমেট্রিক মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি চালু করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৩টি বিমানবন্দরে মার্কিন নাগরিকদের জন্য উন্নত যাত্রী প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থা এবং ৭টি বিমানবন্দরে দ্রুত সীমান্ত প্রবেশের ব্যবস্থা রয়েছে। এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে যাত্রীরা থেমে না থেকেই তিন সেকেন্ডেরও কম সময়ে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন।
বিদেশিদের জন্য বায়োমেট্রিক ব্যবস্থায় বাধ্যতামূলক নিয়ম প্রবর্তন করা হয়েছে। মার্কিন নাগরিকরা চাইলে মুখ স্ক্যানের পরিবর্তে শুল্ক ও সীমান্ত সুরক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে পরিচয় যাচাই করতে পারবেন। তবে বিদেশি নাগরিকদের জন্য বায়োমেট্রিক পরিচয় যাচাই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
গত ২৬ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া নতুন ফেডারেল নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও দেশ ছাড়ার সময় বায়োমেট্রিক পরিচয় যাচাই করা আবশ্যক। পূর্বে ১৭ বছরের কম এবং ৭৯ বছরের বেশি বয়সী বিদেশিদের এই প্রক্রিয়া থেকে মুক্ত রাখা হলেও নতুন নিয়মে সেই বয়সভিত্তিক ছাড় তুলে নেওয়া হয়েছে। এখন আকাশ, স্থল বা সমুদ্রপথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ বা দেশ ছাড়ার সময় বিদেশিদের মুখ স্ক্যান বা আঙুলের ছাপ দিতে হবে।
কীভাবে হবে পরিচয় যাচাই?
বায়োমেট্রিক ব্যবস্থায় যাত্রীর মুখের ছবি তোলা হবে। এরপর সেটি সরকারি তথ্যভান্ডারে থাকা পাসপোর্ট বা ভিসার ছবির সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে মিলিয়ে দেখা হবে।
শুল্ক ও সীমান্ত সুরক্ষা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুসারে, মুখ শনাক্তকরণের মাধ্যমে পরিচয় যাচাইয়ের নির্ভুলতার হার ৯৮ শতাংশের বেশি। ২০১৭ সালের জুন থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮৪ কোটি ৮০ লাখ মানুষ এই বায়োমেট্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেছেন। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা ৫ লাখ ২৯ হাজারের বেশি মানুষকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
সব সীমান্তে চালুর লক্ষ্য
আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সব বন্দর ও সীমান্ত পারাপারের স্থানে বায়োমেট্রিক ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে চালুর লক্ষ্যে কাজ চলছে। শুধু ইমিগ্রেশন নয়, বিমানবন্দরের লাগেজ পরীক্ষাতেও নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৭ সালের মধ্যে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে এমন একটি লাগেজ পরীক্ষার ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে, যার মাধ্যমে উড়োজাহাজ আকাশে থাকা অবস্থাতেই কর্মকর্তারা দূর থেকে লাগেজ পরীক্ষা করতে পারবেন।
ফলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াতকারী বিদেশিদের ইমিগ্রেশন ও নিরাপত্তা যাচাইয়ের বড় অংশই বায়োমেট্রিক প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠতে যাচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন