প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
নারায়ণগঞ্জ শহরের জামতলা এলাকায় মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ ও ফ্লেক্সিলোড এজেন্ট) ব্যবসায়ী মো. মোতালেব হোসেন (৬১) কে অপহরণের পর হত্যা করার ঘটনায় মূল হোতা জাকিরসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে যে মোতালেবের বিকাশ অ্যাকাউন্টের টাকা আত্মসাৎ করার পরিকল্পনায় নৃশংসভাবে তাকে অপহরণ করে খুন করা হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া জাকির (৪৫) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
শুক্রবার (৩ জুলাই) জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেফতার হওয়া অন্য দুজন হলেন- হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা জাকিরের সহযোগী ওমর ফারুক (২২) এবং সোহেল (৪৯)। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে নিহতের বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ক্যাশ আউটকৃত নগদ ৮৬ হাজার টাকা, হত্যাকাণ্ড এবং লাশ পরিবহনে ব্যবহৃত একটি ব্যাটারিচালিত মিশুক, তিনটি মোবাইল ফোন এবং নিহতের ব্যবহৃত একটি টিফিন বক্স।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) গভীর রাতে বন্দর উপজেলার সেলসারদী এলাকা থেকে জাকিরকে গ্রেফতার করা হয়, পাশাপাশি শহরের মাসদাইর এলাকা থেকে তার দুই সহযোগী ওমর ফারুক এবং সোহেলকেও গ্রেফতার করে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। এর পূর্বে, বৃহস্পতিবার সকালে শহরের জামতলা হাজী ব্রাদার্স রোড সংলগ্ন ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের পাশ থেকে তোশকে মোড়ানো অবস্থায় মোতালেব হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরে এ ঘটনার জন্য নিহত মোতালেব হোসেনের মেয়ে সুমনা আক্তার মিম বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করে ওই দিনই ফতুল্লা মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
নিহত মো. মোতালেব হোসেনের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার শিবপুর এলাকায়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফতুল্লার মাসদাইর কবরস্থান এলাকার ফারুক মিয়ার জাজিরা টাওয়ারে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে সপরিবারে বসবাস করছিলেন। তার মাসদাইর বাজারে একটি লাইব্রেরি ও বিকাশ এজেন্ট হিসেবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
পুলিশ জানায়, মরদেহ উদ্ধারের পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং তথ্য প্রযুক্তির সহযোগিতায় হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু হয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে জাকির নিহত মোতালেব হোসেনের কাঁধে হাত রেখে তাকে নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। এর সূত্র ধরে মাসদাইর রোকেয়া স্কুল সংলগ্ন জাকিরের বাসায় অভিযান চালিয়ে নিহতের ব্যবহৃত টিফিন বক্স উদ্ধার করা হয়। পরে বন্দরের থেকে জাকিরকে গ্রেফতার করার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঐ রাতেই গ্রেফতার করা হয় জাকিরের দুই সহযোগী ওমর ফারুক ও সোহেলকে।
আরও পড়ুন: বিএনপি নেতা বাশার হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামিসহ গ্রেফতার ২
জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদি জানান, বিকাশ অ্যাকাউন্টের টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যেই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় মূল হোতা সহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অটোরিকশা, ৮৬ হাজার টাকা, তিনটি মোবাইল ফোন ও টিফিন বক্স উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা ও মামলার প্রধান আসামি জাকির হত্যার দায় স্বীকার করে শুক্রবার (৩ জুলাই) আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। হত্যার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন