প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুজেস্তান প্রদেশের আহভাজ শহরের একটি বিশেষায়িত ক্যানসার হাসপাতালের খুব কাছাকাছি যুক্তরাষ্ট্র দফায় দফায় বিমান হামলা চালিয়েছে। হামলার ফলে হাসপাতালটির চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়েছে এবং ২১১ জন রোগীকে জরুরি ভিত্তিতে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালের পরিচালক রেজা বাজারের বরাতে আজ বৃহস্পতি বার (১৬ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কারণে বাঘায়ি স্পেশালাইজড হাসপাতাল কার্যত অচল হয়ে গেছে। হামলায় হাসপাতালের ভেতরে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া না গেলেও নিরাপত্তার জন্য সব রোগীকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালের ব্যবস্থাপক ডা. মাজিদ বো’আজার আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, বাধ্য হয়ে ২১১ জন রোগীকে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে, তাদের মধ্যে ক্যানসার রোগী সহ দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসাধীন অনেক গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তি রয়েছেন।
হামলার বিষয়ে হাসপাতালের এক কর্মী আল জাজিরাকে বলেন, হাসপাতালের আশপাশে ব্যাপক বোমাবর্ষণ হচ্ছিল। তিনি জানান, ‘এখানে ক্যানসার রোগীসহ বিশেষায়িত চিকিৎসাধীন রোগীরা ভর্তি ছিলেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে হাসপাতালের চারপাশে ব্যাপক বোমাবর্ষণ হয়েছে। অনেক রোগী অক্সিজেন ও ভেন্টিলেটরের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘কেউ শিশুদের কোলে নিয়ে, কেউ হাতে স্যালাইন নিয়ে, আবার কেউ হুইলচেয়ারে করে হাসপাতালের বাইরে বেরিয়ে এসেছিলেন। সবাইকে দ্রুত ভবনের বাইরে সরিয়ে নেওয়া হয়।’
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি এক্সে এক পোস্ট করে বলেন, এই হামলা ছিল বর্বরোচিত এবং এটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের ওপর ইসরাইলের হামলার কথা মনে করিয়ে দেয়।
তিনি বলেন, ‘এই বর্বরোচিত হামলার কারণে হাসপাতালে ভর্তি শিশু ও অন্যান্য রোগীরা চরম ভোগান্তি ও আতঙ্কের মুখে পড়েছেন।’ তিনি জানান, কেমোথেরাপি গ্রহণরত ২১১ জন রোগীকে সরিয়ে নিতে হয়েছে।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত হাসপাতাল খালি করার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। একইসাথে হামলার লক্ষ্যবস্তু হাসপাতাল ছিল কি না, সে বিষয়েও ওয়াশিংটন কোনো মন্তব্য করেনি।
আজ বৃহস্পতিবার মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে আরও এক দফা বিমান হামলা চালিয়েছে। এদিকে ইরানের বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, হামলার সময় হরমুজ প্রণালীর কাছের কেশম দ্বীপের পাশাপাশি বন্দর আব্বাস এবং চাবাহার এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালিতে একটি বন্দরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে অচল করে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ইরান দাবি করেছে, তারা পাল্টা হামলায় কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
এদিকে ইরানের সামরিক বাহিনী সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বেসামরিক স্থাপনায় হামলার হুমকি বাস্তবায়ন করে, তবে ‘অঞ্চলজুড়ে সব অবকাঠামো ইস্পাতের আঘাতে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন