প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি যুদ্ধের ফলে পরিবেশের ক্ষতির জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, পরিবেশের ধ্বংস শুধু যুদ্ধাপরাধ নয়, বরং এটি একটি স্বতন্ত্র আন্তর্জাতিক অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার দাবি রাখে। উদ্বেগ প্রকাশের পরিবর্তে কার্যকর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
রোববার (১১ অক্টোবর) তেহরানে অনুষ্ঠিত ‘পরিবেশ ধ্বংস: নীরব যুদ্ধাপরাধ’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তব্য প্রদানকালে আরাঘচি বলেন, পরিবেশ মানবজাতির একটি অভিন্ন সম্পদ। রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, সামরিক সংঘাত বা স্বল্পমেয়াদি অর্থনৈতিক স্বার্থের কারণে পরিবেশকে ধ্বংস করা উচিত নয়।
‘ইকোসাইড’ শব্দটি ব্যবহার করে তিনি বলেন, এই ধারণা গণহত্যার মতোই গুরুতর। যুদ্ধের ফলে পরিবেশের ওপর যে প্রভাব পড়ে, তা যুদ্ধ শেষ হওয়ার বহু বছর, এমনকি কয়েক দশক পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, যুদ্ধের কারণে পানি, মাটি, বায়ু, বন, কৃষিজমি, জ্বালানি সম্পদ, প্রাকৃতিক আবাসস্থল ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে মানুষের পাশাপাশি প্রকৃতিরও দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়।
গাজার পরিবেশগত বিপর্যয়ের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, সেখানে জলপাইবাগান ধ্বংস এবং পানি ও মাটি দূষিত হওয়ার মতো নজিরবিহীন ক্ষতি হয়েছে। লেবাননে আগুনে বনভূমি ও হাজার হাজার জলপাইগাছের ধ্বংসের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
ইরানের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলার প্রসঙ্গ তুলে আরাঘচি বলেন, ২০২৬ সালের মার্চে জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি এসব হামলায় বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে। তিনি তেহরানে ‘কালো বৃষ্টি’ হওয়ার ঘটনাও স্মরণ করেন।
পরিবেশ ধ্বংস মোকাবিলায় তিনটি ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানান আরাঘচি। এই তিনটি ক্ষেত্র হলো—পরিবেশ ধ্বংস শনাক্ত ও মোকাবিলায় স্পষ্ট আইন ও মানদণ্ড তৈরি, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি নথিবদ্ধ করতে নিরপেক্ষ বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর পরিবেশ পুনরুদ্ধারে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো।
আরাঘচি বলেন, পরিবেশ ধ্বংসকে স্বতন্ত্র আন্তর্জাতিক অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষে ইরান। এ বিষয়ে বৈজ্ঞানিক, আইনি ও কূটনৈতিক সক্ষমতা কাজে লাগাতে দেশটি প্রস্তুত। সামরিক হামলায় পরিবেশের ক্ষতি নিয়ে বিশ্বব্যাপী আলোচনা বাড়ানোর জন্য আসন্ন জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩১-কে উপযুক্ত সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, আগ্রাসীদের তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দায় এড়িয়ে যেতে দেওয়া হবে না।
সূত্র: মেহের নিউজ
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন