প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
২০১৭ সালে সিলেটকে দেশের প্রথম স্মার্ট নগর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রায় ৩০ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘ডিজিটাল সিলেট সিটি’ প্রকল্প শুরু হয়েছিল। এই প্রকল্পটি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) দ্বারা বাস্তবায়িত হয়। প্রকল্পটির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল নগরজুড়ে বিনামূল্যে ওয়াইফাই সেবা প্রদান করা। কিন্তু উদ্বোধনের কয়েক বছরের মধ্যেই কোটি কোটি টাকার এই প্রকল্প এখন অচল অবকাঠামোয় পরিণত হয়েছে।
জানা যায়, ২০২০ সালের মার্চে সিলেট নগরীর ৬২টি স্থানে ১২৬টি ওয়াইফাই অ্যাক্সেস পয়েন্ট চালু করা হয়েছিল। তখন ঘোষণা করা হয়েছিল, প্রতিটি পয়েন্টে একসঙ্গে ৫০০ জন ব্যবহারকারী সর্বোচ্চ ১০ এমবিপিএস গতিতে বিনামূল্যে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন। কিন্তু উদ্বোধনের কিছুর মধ্যেই ধীরগতির সংযোগ, বারবার বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং পরবর্তীতে সম্পূর্ণ সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল।
বর্তমানে বন্দরবাজার, চৌহাট্টা, রিকাবীবাজার, টিলাগড় সহ নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় স্থাপিত ওয়াইফাই ডিভাইসগুলো সম্পূর্ণ অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত এই প্রকল্পটি এখন শুধু নামেই আছে, বাস্তবে এর কোনো সেবা নেই। তারা দাবি করছেন, এটি জনগণের অর্থের স্পষ্ট অপচয় এবং এ বিষয়ে দায়ীদের দ্রুত জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্পটি ২০২১ সালে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। পরে ২০২২-২৩ অর্থবছরে বিসিসি ওয়াইফাই জোনের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দিতে সিটি কর্পোরেশনকে চিঠি দেয়। তবে পর্যাপ্ত বাজেট ও জনবল না থাকায় সিটি কর্পোরেশন প্রকল্পটি সচল রাখতে পারেনি। ফলে মাসিক রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বহন করতে না পেরে এই সেবা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন অযত্নে পড়ে থাকার কারণে মাঠপর্যায়ের অধিকাংশ মূল্যবান যন্ত্রপাতি এখন নষ্ট হয়ে গেছে।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার সময় সংবাদকে বলেন, 'প্রকল্পটির নকশাগত ত্রুটি ছিল। ফলে এক বছর সেবা চালুর পর সেটি আর টেকসই হয়নি। প্রকল্প পরিকল্পনার সময় দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।'
অন্যদিকে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী জয়দেব বিশ্বাস প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে বলেন, 'বর্তমান সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা ও নির্দেশনা দিলে প্রকল্পটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।'
স্মার্ট সিটির যে স্বপ্ন দেখিয়ে প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছিল, তার বড় অংশই এখন মুখ থুবড়ে পড়েছে। কোটি টাকার এই প্রকল্পে যেমন কোনো সেবা নেই, তেমনি নেই কোনো কার্যকর জবাবদিহি। ফলে সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠছে, এটি কি শুধুই অপরিকল্পিত বাস্তবায়নের ব্যর্থতা, নাকি জনগণের অর্থ অপচয়ের আরেকটি বৃহৎ নজির। বর্তমানে এই পুরো বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও উত্তর খুঁজছেন সিলেটবাসী।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন