প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
এক টুকরো রান্না করা গরুর মাংসের বাজারমূল্য সাধারণত বেশ চড়া হয়ে থাকে। কিন্তু পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) প্রধান ফটকের সামনে গিয়ে ভিন্ন এক দৃশ্য দেখা যায়। সেখানে মাত্র ১০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে রান্না করা এক টুকরো গরুর মাংস। এই স্বল্পমূল্যের প্রিয় খাবারটি পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মুখে ফুটছে তৃপ্তির হাসি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে একটি খাবারের দোকান রয়েছে, যার নাম ‘ইয়াহিয়ার স্বাদের কোণ’। দোকানটির মালিক মো. জয়নাল আবেদীন গত এক মাস ধরে প্রতি শুক্রবার শিক্ষার্থীদের জন্য মাত্র ১০ টাকায় রান্না করা গরুর মাংস বিক্রি করে আসছেন। তবে, একজন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ দুই টুকরো মাংস ক্রয় করতে পারেন। অর্থাৎ, দুই টুকরো মাংসের জন্য শিক্ষার্থীদের খরচ হচ্ছে মাত্র ২০ টাকা।
দোকান মালিকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতি শুক্রবার প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন শিক্ষার্থীকে এভাবে স্বল্প মূল্যে গরুর মাংস সরবরাহ করা হয়। শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে মাংস বিক্রি শুরু হলে দোকানের সামনে শিক্ষার্থীদের ভিড় জমে যায়। কখনও কখনও সেখানে দীর্ঘ সারি তৈরি হয়।
১০ টাকায় রান্না করা গরুর মাংস কীভাবে দেওয়া সম্ভব—এ প্রশ্নের উত্তর জানতে জানা যায়, এই উদ্যোগের পেছনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সহযোগিতা রয়েছে।
জয়নাল আবেদীন জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কাছ থেকে সপ্তাহজুড়ে অনুদান সংগ্রহ করা হয়। কেউ নগদ অর্থ দেন, আবার কেউ সরাসরি গরুর মাংস কিনে দেন। সেই অর্থ ও মাংস দিয়েই প্রতি শুক্রবার শিক্ষার্থীদের জন্য স্বল্প মূল্যে মাংস বিক্রির আয়োজন করা হয়।
জয়নাল আবেদীন বলেন, তিনি প্রায় এক বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে খাবারের দোকান পরিচালনা করছেন। শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের জন্য স্বল্পমূল্যে খাবার দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
তিনি বলেন, "আমার দোকানের আশপাশের কয়েকটি খাবারের দোকানে দুই টুকরো রান্না করা গরুর মাংস ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়। একদিন চিন্তা করলাম, শিক্ষার্থীদের জন্য যদি কম দামে গরুর মাংস দেওয়ার ব্যবস্থা করা যায়।" বিষয়টি সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করলে তারা উৎসাহ দেন এবং আর্থিকভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। মূলত তাদের দেওয়া অনুদানের টাকাতেই এখন মাত্র ১০ টাকায় এক টুকরো গরুর মাংস দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, "অনেক শিক্ষক গোপনে টাকা দেন কিংবা গরুর মাংস কিনে দিয়ে যান। তারা মূলত শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করেই সহযোগিতা করেন।" তবে যতটুকু অর্থ বা মাংস পাওয়া যায়, তা দিয়ে সীমিত সংখ্যক শিক্ষার্থীকে সেবা দেওয়া সম্ভব হয়। সহযোগিতা বাড়লে আরও বেশি শিক্ষার্থীকে স্বল্প মূল্যে মাংস দেওয়া সম্ভব হবে।
এছাড়া, জয়নাল আবেদীন শিক্ষার্থীদের জন্য আরও একটি সুবিধা চালু করেছেন। তার দোকানে রুটি বা পরোটার সঙ্গে ডাল কিংবা সবজি নিলে এর জন্য কোনো অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয় না।
জয়নাল আবেদীন বলেন, "আশপাশের অনেক দোকানে রুটি বা পরোটার সঙ্গে ডাল-সবজির জন্য আলাদা করে ১০ টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু আমি শিক্ষার্থীদের জন্য রুটি বা পরোটার সঙ্গে ডাল-সবজি বিনা মূল্যে দিয়ে থাকি।" শিক্ষার্থীদের উপকার এবং সওয়াবের নিয়তেই মূলত এই উদ্যোগ নিয়েছি।
প্রতি শুক্রবার দুপুরে দোকানটির সামনে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি যেন আলাদা এক চিত্র তৈরি করে। স্বল্প মূল্যে গরুর মাংস পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ায় নির্ধারিত সময়ের আগেই অনেকে দোকানের সামনে এসে অপেক্ষা করেন। মাংস বিক্রি শুরু হলে তৈরি হয় দীর্ঘ সারি। সামর্থ্যের মধ্যে পছন্দের খাবার পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
জয়নাল আবেদীন বলেন, "শিক্ষার্থীরা আগ্রহ নিয়ে মাংস নিতে আসে—এটাই আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া।" তিনি আরও বলেন, সহযোগিতা বাড়লে আরও বেশি শিক্ষার্থীকে এই সুবিধার আওতায় আনতে চান।
তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী কিংবা অন্য কেউ এই উদ্যোগে সহযোগিতা করতে চাইলে তারা অনুদান দিতে পারেন। সহযোগিতা যত বাড়বে, তত বেশি শিক্ষার্থীকে স্বল্প মূল্যে গরুর মাংস দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন